৫ কিমি পর্যন্ত দূরত্বের ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম লেজার অস্ত্র প্রস্তুত করছে ডিআরডিও

DRDO: ভারতের অ্যান্টি-ড্রোন সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে ডিআরডিও (DRDO) একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের…

DRDO laser weapon

DRDO: ভারতের অ্যান্টি-ড্রোন সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে ডিআরডিও (DRDO) একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের ৩০-কিলোওয়াট লেজার অস্ত্রের জন্য একজন শিল্প-অংশীদার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই উদ্দেশ্যে একটি ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (EOI) বা আগ্রহপত্র প্রকাশ করা হবে।

Advertisements

এই অস্ত্রটিকে ‘ফার্স্ট অফ প্রোডাকশন মডেল’ (FOPM) পর্যায়ে উন্নীত করার প্রস্তুতি চলছে। ডিআরডিও (DRDO)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এই ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এর প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

   

৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের ড্রোনকে লক্ষ্য করার সক্ষমতা

ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি ট্রাক-মাউন্টেড এই লেজার অস্ত্রটি বিশেষভাবে শত্রু ড্রোন এবং চালকবিহীন আকাশযান (UAV) ভূপাতিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর প্রধান সক্ষমতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা।
  • একই সাথে একাধিক ড্রোনের ঝাঁককে প্রতিহত করা।
  • ফিক্সড-উইং ইউএভি (UAV) এবং নজরদারি সেন্সরকে লক্ষ্য করা।
  • লেজার রশ্মি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ অকার্যকর করা।

ডিআরডিও (DRDO)-র ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন সিস্টেমস-এর মহাপরিচালক ড. বি. কে. দাস *আউটলুক*-কে জানিয়েছেন যে, শিল্প-অংশীদার নির্বাচনের লক্ষ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (EOI) বা আগ্রহপত্র প্রকাশ করা হবে। তবে, এফওপিএম (FOPM) সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

Advertisements

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ড্রোন-প্রতিরোধী অস্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ

২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ব্যাপক হারে ড্রোনের ব্যবহার লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এই সময়ে পাকিস্তান স্বল্পমূল্যের ড্রোন ব্যবহার করে ভারতের আকাশ-প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোর ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা করেছিল। এর ফলে, কম খরচে শত্রুপক্ষের ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম এমন অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।

লেজার অস্ত্র এই চ্যালেঞ্জের একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য প্রচলিত অস্ত্রের বিপরীতে, এগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিটি লক্ষ্যের জন্য আলাদা কোনো ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিহতকারী অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না। তবে এগুলোর কার্যকারিতা আবহাওয়া এবং লক্ষ্যের পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করে।

২-কিলোওয়াট এবং ১০-কিলোওয়াট ক্ষমতার লেজার ব্যবস্থা তৈরির কাজও চলছে

ডিআরডিও (DRDO) বিভিন্ন সক্ষমতা-সম্পন্ন ‘ডাইরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনস’ (DEWs) বা নির্দেশিত শক্তিচালিত অস্ত্র তৈরির কাজ করছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২-কিলোওয়াট ক্ষমতার লেজার সিস্টেমের উৎপাদন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই উদ্যোগে আদানি, অ্যাস্ট্রা এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর মতো কোম্পানিগুলো যুক্ত রয়েছে।

১০ কিলোওয়াট লেজার সিস্টেমটির ক্ষেত্রে, ক্রয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রকল্পটি ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন লাভ করেছে। সূত্র অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২টি ইউনিট সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে আদেশ প্রদান করা হয়েছে। উন্নয়ন ও উৎপাদন সহযোগী হিসেবে এলঅ্যান্ডটি (L&T) এবং বিইএল (BEL)-কে নির্বাচন করা হয়েছে। এই সিস্টেমটির কার্যকর পাল্লা বা এনগেজমেন্ট রেঞ্জ প্রায় ১.৫ থেকে ২ কিলোমিটার।

৩০ কিলোওয়াট লেজার সিস্টেম: পরবর্তী ধাপ

আগামী ছয় মাসের মধ্যে একজন শিল্প-অংশীদার নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (EOI) বা আগ্রহপত্র প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এর লক্ষ্য হলো প্রাথমিক উৎপাদন মডেলের পর্যায়ে পৌঁছানো।

ভারতের জন্য এই প্রযুক্তি কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

৩০-কিলোওয়াট ক্ষমতার লেজার অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হওয়া ভারতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে – বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন স্বল্পমূল্যের ড্রোনের ঝাঁক প্রথাগত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Advertisements