বাজেট ঘোষণার আবহেই DRDO থেকে এল বড় বার্তা

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-এর চেয়ারম্যান ড. সমীর ভি কামত সম্প্রতি এক বড় ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, DRDO-এর উন্নয়নাধীন…

drdo-hypersonic-anti-ship-missile-game-changer

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-এর চেয়ারম্যান ড. সমীর ভি কামত সম্প্রতি এক বড় ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, DRDO-এর উন্নয়নাধীন লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ হাইপারসোনিক মিসাইল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটা ‘গেম-চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে।

Advertisements

এই মিসাইল বর্তমানের সুপারসোনিক ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইলের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল এবং দূরপাল্লার, যা সমুদ্রপথে ভারতের আধিপত্যকে নতুন মাত্রা দেবে।ড. কামত ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে এই মিসাইলের দুটি ডেভেলপমেন্ট ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। খুব শীঘ্রই তৃতীয় ট্রায়াল হবে। ডেভেলপমেন্ট ট্রায়াল শেষ হলে আমরা এটি ইউজারদের (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী) কাছে ইভ্যালুয়েশনের জন্য দেব।

   

আরও দেখুন: বাজেট ঘোষণার আবহেই DRDO থেকে এল বড় বার্তা

তারপর ইন্ডাকশন শুরু হবে। আমরা এই সিস্টেম নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী। এটা আমাদের সার্ভিসগুলোর জন্য গেম-চেঞ্জার হবে।”তিনি ব্রহ্মোসের সঙ্গে তুলনা করে আরও স্পষ্ট করেন, “এই LRAShM-এর ক্ষমতা বর্তমান ব্রহ্মোসের চেয়ে অনেক বেশি। এটা ব্রহ্মোসের চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে চলবে এবং রেঞ্জও অনেক বেশি হবে। এটা আমাদের অস্ত্রভাণ্ডারে নতুন শক্তি যোগ করবে।”

ব্রহ্মোস, যা ইন্দো-রাশিয়ান যৌথ উদ্যোগে তৈরি এবং ম্যাক ৩ (প্রায় ৩,৭০০ কিমি/ঘণ্টা) গতিতে চলে, তার তুলনায় হাইপারসোনিক অর্থাৎ ম্যাক ৫-এরও বেশি গতি (কিছু রিপোর্টে ম্যাক ৮-১০ পর্যন্ত উল্লেখ আছে)। এর ফলে এটি শত্রু জাহাজের রাডার ও ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে খুব দ্রুত আঘাত হানতে পারবে।LRAShM-এর রেঞ্জ ১,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি, যা ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে নৌবাহিনীর ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে বাড়াবে।

Advertisements

এটি বুস্ট-গ্লাইড আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটা রকেট বুস্টার দিয়ে উৎক্ষেপণের পর হাইপারসোনিক গ্লাইড ভেহিকল নিচু উচ্চতায় ম্যানুভার করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়। এতে স্থির ও চলমান লক্ষ্যবস্তু, যেমন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ, আক্রমণ করা সম্ভব। মিসাইলটি বিভিন্ন পেলোড বহন করতে পারে এবং ল্যান্ড ও সি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য। DRDO জানিয়েছে, এর অ্যান্টি-শিপ ভার্সনটি প্রথমে আসছে, ল্যান্ড অ্যাটাক ভার্সনটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।

এই মিসাইলটি প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) প্যারেডে, যেখানে DRDO একটা ডামি মডেল ও ১২×১২ লঞ্চার সহ প্রদর্শন করে। এটি ভারতের নৌবাহিনীর কোস্টাল ব্যাটারি রিকোয়ারমেন্ট পূরণ করবে এবং চীন ও পাকিস্তানের নৌশক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইপারসোনিক গতির কারণে শত্রুর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে এটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। এতে ভারতের অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া ডিনায়াল ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে।

Advertisements