রাঁচি, ১৫ আগস্ট: স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির দিনে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে ফের বিতর্ক (Tiranga Yatra)। জেএলকেএম নেতা ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোকে পুলিশ তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নিতে বাধা দিল। দীর্ঘদিন ধরে অনশনরত এই ছাত্রনেতা বর্তমানে রাঁচির সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ আজ স্বাধীনতা দিবসে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও তিরঙ্গা যাত্রায় যোগ দিতে চেয়েছিলেন।
জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে বড় আন্দোলন (Tiranga Yatra)। হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। ২ আগস্ট থেকে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন। আজ সেই অনশনের ১৪তম দিন।
আরও দেখুনঃ কে ছিলেন পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া? জানুন ভারতের জাতীয় পতাকা তৈরির নেপথ্যের ইতিহাস
এর আগে বিধানসভা ঘেরাও মার্চের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও জলকামানের মুখে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তখনই তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। (Tiranga Yatra)হাসপাতালের বিছানা থেকেই তিনি আজকের তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তার ঘরের বাইরে ভারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসন স্বাস্থ্যগতন দেখিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে বেরোতে দেয়নি।
মাহাতো নিজেই এক্স-এ লিখেছেন, “তিরঙ্গা যাত্রা (Tiranga Yatra)ও পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চাইলেই আমার হাসপাতালের ঘরের বাইরে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ কেমন স্বাধীনতা? নিজের দেশে তিরঙ্গা হাতে শান্তিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়ার স্বাধীনতাও কি আমাদের নেই?”এই ঘটনা আন্দোলনরত ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, স্বাধীনতা দিবসে একজন অনশনরত ছাত্রনেতাকে জাতীয় পতাকার যাত্রায় যোগ দিতে না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
আরও দেখুনঃ ইতিহাসে প্রথমবার! ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় গাওয়া হল ‘বন্দে মাতরম’
আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, ওএমআর শিটে কারচুপি ও কাটঅফ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তারা সিবিআই তদন্ত, দোষীদের শাস্তি ও নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকার কিছু দাবি মেনে নিলেও পূর্ণ ন্যায়বিচারের অভাব রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো রাঁচি জেলার এক সাধারণ গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র ও যুব সমস্যা নিয়ে সক্রিয় তিনি। (Tiranga Yatra)সংস্কৃত ও কুরমালি ভাষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই নেতা জেএলকেএম-এর সঙ্গে যুক্ত। তার অনশন ও আন্দোলন ইতিমধ্যেই রাজ্যের বাইরেও আলোচনা তৈরি করেছে। হাসপাতালে থাকার পরও তিনি আন্দোলনকে একত্রিত রাখার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন। বলছেন, কেউ যেন আন্দোলনকে ভাঙতে বা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে না পারে।
