দিল্লি মেট্রোতে এক মহিলা যাত্রীর ছবি তোলার অভিযোগে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (CISF) এক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির এইমস (AIIMS) মেট্রো স্টেশনে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর, সিআইএসএফ অভিযুক্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (ASI) এ.কে. সিং-কে অবিলম্বে বরখাস্ত করেছে। পাশাপাশি, এই বিষয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, দিল্লি মেট্রোতে ছবি ও ভিডিও তোলা সংক্রান্ত বিষয়ে সিআইএসএফ কর্মীদের জন্য কী নিয়ম রয়েছে, তা একবার দেখে নেওয়া যাক।
দিল্লি মেট্রোতে নিযুক্ত সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF)-এর আধিকারিক ও কর্মীদের যাত্রীদের নিরাপত্তা, শালীনতা এবং আচরণ সংক্রান্ত কঠোর নিয়মাবলী মেনে চলতে হয়। অসদাচরণ বা নিজেদের পদের মর্যাদাহানিকর কোনো ঘটনা ঘটলে তাঁদের অবিলম্বে বরখাস্ত করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে কেবল যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, বরং যাত্রীদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করাও অন্তর্ভুক্ত।
নিয়মাবলি কী?
সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF)-এর কর্মীদের জন্য যাত্রীদের ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা—তা গোপনে হোক কিংবা তাঁদের সম্মতি ছাড়া—কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের আচরণ চাকরির নিয়মাবলি ও নৈতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হতে পারে এবং বিভাগীয় তদন্তও শুরু হতে পারে।
- সম্মতি ছাড়া ছবি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা: সিআইএসএফ (CISF)-এর কর্মকর্তা ও কর্মীরা যাত্রীদের ছবি গোপনে বা তাঁদের সম্মতি ছাড়া তুলতে পারবেন না।
- অসদাচরণের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান: কর্মীদের দ্বারা অনুমতি ছাড়া নাগরিকদের ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ করাকে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা অনুযায়ী আচরণগত গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সংবেদনশীল এলাকায় ছবি তোলা নিষিদ্ধ: সাধারণ জনগণ এবং কর্তব্যরত কর্মী—উভয়ের জন্যই সংবেদনশীল নিরাপত্তা এলাকা, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা পরিচালন-সংক্রান্ত সরঞ্জামের ছবি তোলা সাধারণত নিষিদ্ধ।
- অভিযোগের তদন্ত: ইউনিফর্মধারী কর্মীদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা হয়রানির অভিযোগ উঠলেই বিভাগীয় ও পুলিশি তদন্ত শুরু করা হয়।
কী ঘটেছিল?
দিল্লির একটি ঘটনায় জানা গেছে যে, মেট্রোর ভেতরে সিআইএসএফ (CISF)-এর এক জওয়ান এক মহিলা যাত্রীর অজান্তে তাঁর ছবি তুলেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর মেট্রোর ভেতরেই যাত্রীরা ওই জওয়ানকে ঘিরে ধরেন এবং কৈফিয়ত চান। ওই নারী ও অন্যান্য যাত্রীরা যখন জওয়ানের মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করেন, তখন তাঁর গ্যালারিতে ওই নারীর ছবি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এর ফলে মেট্রোর কামরায় হট্টগোল শুরু হয় এবং যাত্রীরা তাঁকে ছবিগুলো মুছে ফেলার দাবি জানান। ঘটনাটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে যে, যাত্রীরা যখন প্রতিবাদ করেন এবং তাঁর ফোনটি চেয়ে বসেন, তখন ওই জওয়ান তাঁদের দিকে তাঁর সার্ভিস পিস্তল তাক করেন, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সিআইএসএফ (CISF)-এর বিবৃতি
এই ঘটনার পর সিআইএসএফ (CISF) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিস্তারিত তদন্তও শুরু করা হয়েছে। সিআইএসএফ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
