লক্ষাধিক সাইবার হামলার আশঙ্কা! ব্রিকসের আগে ‘ডিজিটাল দুর্গ’ গড়ছে ভারত

নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের জি-২০ (G20) সামিটের সময় সাইবার হামলার ভয়াবহতা ছিল কার্যত নজিরবিহীন। আর সেই সর্বগ্রাসী সাইবার হানার অভিজ্ঞতা থেকেই এবার শিক্ষা নিল ভারত। আগামী…

নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের জি-২০ (G20) সামিটের সময় সাইবার হামলার ভয়াবহতা ছিল কার্যত নজিরবিহীন। আর সেই সর্বগ্রাসী সাইবার হানার অভিজ্ঞতা থেকেই এবার শিক্ষা নিল ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সামিটের আগে দেশের সাইবার-প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে কার্যত নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করল কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এই হাই-প্রোফাইল সম্মেলনের সময় প্রতি সেকেন্ডে লক্ষাধিক সাইবার হামলার চেষ্টা হতে পারে।

Advertisements

জি-২০ সম্মেলনে হামলার নজিরবিহীন স্কেল

জি-২০ সম্মেলনের সময় সাইবার চ্যালেঞ্জের মাত্রা কতটা ভয়াবহ ছিল, তা পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হয়। সামিটের দিন অফিশিয়াল জি-২০ ওয়েবসাইটের ওপর প্রতি মিনিটে ১৬ লক্ষ সাইবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা সেকেন্ডে প্রায় ২৬ হাজারের সমান। সেবার ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C), সার্ট-ইন (CERT-In) এবং ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (NIC)-এর যৌথ তৎপরতায় সেই বিপুল আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল।

   

কীভাবে সাজানো হয়েছে এবারের ‘ডিজিটাল দুর্গ’?

বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত এবার আর একটিমাত্র নিরাপত্তা বলয়ের ওপর নির্ভর করছে না। সরকারের বিভিন্ন ওয়েবসাইট, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামিটের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় বা মাল্টি-লেয়ারড নিরাপত্তার জাল বোনা হয়েছে। ট্র্যাফিক ফিল্টারিং, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স এবং স্বয়ংক্রিয় ডিটেকশনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতীয় ও স্থানীয় স্তরে গঠিত একাধিক বিশেষ দল এবং বিশেষজ্ঞরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবেন।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ‘এআই’ (AI) হামলা

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ব্রিকস সামিটকে ব্যাহত করতে একাধিক বিদেশি রাষ্ট্রশক্তি বা ‘স্টেট অ্যাক্টর’ হাত মিলিয়েছে। এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এআই বা কৃত্রিম মেধা-চালিত সাইবার হামলা। লক্ষ লক্ষ সাধারণ ব্যবহারকারীর বৈধ ট্র্যাফিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা স্বয়ংক্রিয় ও ক্ষতিকর এআই ট্র্যাফিককে চিহ্নিত করাই এখন সাইবার বিশেষজ্ঞদের কাছে অগ্নিপরীক্ষা।

Advertisements

সাইবার সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া-এর ডিরেক্টর জেনারেল এবং এথিক্যাল হ্যাকার কুশল কৌশিক বলেন, “পরিসংখ্যান যেকোনো নীতিনির্ধারকের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতীয় সংস্থাগুলি প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩,৮০০টিরও বেশি সাইবার হামলার সম্মুখীন হয়েছে। এই বছর ভারতে হওয়া সাইবার হামলার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ছিল এআই-জেনারেটেড। তথ্য ফাঁসের জেরে গড়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা, যা এক বছরে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি।”

ব্রিকসেও সাইবার সহযোগিতা

ব্রিকস দেশগুলির মধ্যেও সাইবার সহযোগিতা এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ বছর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সাইবার অনুশীলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি একটি টেকনিক্যাল ড্রিলের মাধ্যমে সাইবার রেসপন্স সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় যাচাই করেছে। ব্রিকস সামিটের আগে ভারতের একটাই লক্ষ্য, সাইবার হানা যদি কোটিতেও পৌঁছয়, তবুও সামিটের কাজে বিন্দুমাত্র বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না হ্যাকাররা।

মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?

জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,

Advertisements