২.৪৫ কোটি নগর ভোটার অনুপস্থিতি, বিজেপির নির্বাচনী পরিকল্পনায় ধাক্কা

উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ার ফলে শহুরে ভোটার ধরে রাখা বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শহরভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে…

BJP’s Urban Vote Bank at Risk with 2.45 Crore Missing Voters in UP

উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ার ফলে শহুরে ভোটার ধরে রাখা বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শহরভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে আসা বিজেপির এই কৌশল এখন পরীক্ষা মুখে। বিশেষ করে (SIR) চালু হওয়ার পর থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় দ্বৈত বা ডুপ্লিকেট নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভোটারদের কেবল একটিমাত্র স্থানে নাম নিবন্ধন করতে হবে। এ কারণে অনেক শহুরে ভোটার নিজেদের নাম গ্রামাঞ্চলের তালিকায় রাখার প্রাধান্য দিয়েছেন। এর ফলে শহরের ভোটার তালিকায় অনেকেই নাম জমা দেননি, যার ফলে তারা পুরোপুরি শহরের ভোটার রোল থেকে বাদ পড়েছেন।

Advertisements

এখন পর্যন্ত রাজ্যব্যাপী SIR ও নির্বাচনী ফর্মের ১৭.৭ শতাংশ ফেরত দেয়া হয়নি। অনুমান অনুযায়ী, অনুপস্থিত ফর্মের সংখ্যা প্রায় ২.৪৫ কোটি। এই ফাঁকনীর কারণে শহুরে ভোটারদের উপস্থিতি বিপুলভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে অযোধ্যা-তে প্রায় ৪,১০০ ভোট, লখনউ-তে প্রায় ২.২ লাখ ভোট তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

   

প্রায়াগরাজে সবচেয়ে বেশি ভোটর বাদ পড়েছে—প্রায় ২.৪ লাখ। এই তালিকা হালনাগাদের ফলে বিজেপির জন্য শহুরে ভোট ধরে রাখা একটি বড় রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। শহরের অনেক ভোটার গ্রামাঞ্চলের তালিকায় নাম রাখার কারণে শহরভিত্তিক ভোট ব্যাংক দুর্বল হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে ভোটারদের অনুপস্থিতি বিজেপির নির্বাচনী কৌশল ও ভোটার সংগঠনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শহরের হঠাৎ অনুপস্থিত ভোটাররা শুধু ভোটার সংখ্যা নয়, ব্যবসা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের দিক থেকেও প্রভাবিত। অনেক ভোটার অনিচ্ছায় বা সচেতনভাবে ফর্ম জমা না দেওয়ার কারণে শহরের ভোটার তালিকায় গ্যাপ তৈরি হয়েছে।

Advertisements

SIR-এর ফলে ভোটার তালিকা হালনাগাদে দ্বৈত নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও এখন নজরদারি বাড়াতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হালনাগাদ প্রক্রিয়া শুধু ভোটার তালিকায় ফাঁক তৈরি করছে না, বরং রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াচ্ছে। তবে বিজেপির জন্য শহরের ভোটার সংখ্যা কমে যাওয়া বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের বড় শহরগুলোতে তাদের শহুরে ভোটব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ, এবং ভোটার ফাঁকনীর ফলে নির্বাচনী প্রভাব কমতে পারে।

 

 

Advertisements