চা পাতায় মেশানো হচ্ছিল বিষ! কারখানা ভেঙে পুলিশের দাওয়াই মহম্মদ শাকিলকে

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (Barabanki) একটি বড় ধরনের অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিষাক্ত চা পাতায় তৈরির চক্র ভেঙে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বারাবাঙ্কি জেলায়। অভিযানে…

barabanki-fake-tea-factory

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (Barabanki) একটি বড় ধরনের অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিষাক্ত চা পাতায় তৈরির চক্র ভেঙে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বারাবাঙ্কি জেলায়। অভিযানে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম মহম্মদ শাকিল। পুলিশের দাবি, এই কারখানায় ৭৬৩.৭৫ কেজি ভেজাল মেশানো চা পাতা তৈরি করা হচ্ছিল, যা বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ভয়ঙ্কর বিষক্রিয়া হতে পারত।

Advertisements

এসটিএফের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে তথ্য পেয়ে তারা বারাবাঙ্কির একটি নির্জন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি অস্থায়ী কারখানা চালু ছিল। কারখানার ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, বড় বড় ড্রামে চা পাতা মিশিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলোতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও কৃত্রিম রং মেশানো হচ্ছিল যাতে চা পাতাগুলো দেখতে আকর্ষণীয় ও উন্নত মানের মনে হয়।

   

আরও দেখুনঃ টাকা তছরূপে অভিযুক্ত বিচারপতি বর্মার অপসারণের ফাইল খুলতে পারে বাদল অধিবেশনেই

উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে বিপজ্জনক কেমিক্যাল, কালারিং এজেন্ট এবং প্রচুর পরিমাণে ভেজাল চা পাতা।মোহাম্মদ শাকিলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চালিয়ে আসছিল। সস্তায় চা পাতা কিনে এনে তাতে রাসায়নিক মিশিয়ে দামি ব্র্যান্ডের মতো করে বাজারে সাপ্লাই করা হতো।

Advertisements

এই ভেজাল চা বিভিন্ন চায়ের দোকান, হোটেল এবং প্যাকেটজাত করে গ্রামীণ এলাকায় বিক্রি করা হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ এখন তার সহযোগীদের খোঁজ করছে। আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।চা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে উত্তর ভারতে চা ছাড়া সকাল শুরুই হয় না। কিন্তু এমন ভেজালের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।

আরও দেখুনঃ ইভির উপর জোর ২০৩০ র মধ্যে তেল কেনায় ১লক্ষ সাশ্রয় চায় মোদী সরকার

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কৃত্রিম রং ও কেমিক্যাল মেশানো চা পাতা নিয়মিত খেলে লিভার, কিডনি এবং পেটের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এসব খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে। শিশু এবং বয়স্কদের জন্য তো এটা আরও বিপজ্জনক।বারাবাঙ্কির স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা জানতাম না যে এত কাছে এমন ভয়ংকর কারখানা চলছে।

আরও দেখুনঃ এবার ভাঙনের আভাস শরদ পাওয়ারের দলে! NDA তে যোগ দিতে আগ্রহী সংখ্যাগরিষ্ট

চা তো সবাই খায়। এখন ভয় লাগছে কতদিন ধরে এই বিষ খেয়ে আসছি।” এলাকার অনেকেই দাবি করেছেন, প্রশাসন যেন এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালায়।এসটিএফের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “আমরা জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কাজ করছি। ভেজাল খাদ্যদ্রব্য তৈরি ও বিক্রির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। এই কেসে আরও তদন্ত চলছে। যদি কোনো বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া যায় তাহলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Advertisements