দিল্লি দাঙ্গায় নিহত IB অফিসার অঙ্কিতের হত্যাকারী তাহির হুসেনের ফাঁসির দাবিতে দিল্লি পুলিশ

নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার সময় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB)(Ankit Sharma) অফিসার অঙ্কিত শর্মার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় নতুন মোড় এই মামলায় দিল্লি পুলিশ তাহির হুসেনসহ পাঁচ…

ankit-sharma-murder-case-tahir-hussain

নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার সময় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB)(Ankit Sharma) অফিসার অঙ্কিত শর্মার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় নতুন মোড় এই মামলায় দিল্লি পুলিশ তাহির হুসেনসহ পাঁচ দোষীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। আদালতে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা “পশুতে পরিণত হয়েছিল” এবং “মানবতা হারিয়ে ফেলেছিল”।

Advertisements

অঙ্কিত শর্মার দেহে মোট ৫১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৬টি ধারালো অস্ত্রের। এমনকি মৃত্যুর পরেও তাঁর দেহে নৃশংস অত্যাচার চালানো হয় বলে অভিযোগ। আদালত শিগগিরই সাজা ঘোষণা করবে।ঘটনাটি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের। সিএএ-এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।

   

আরও দেখুনঃ রাশিয়ার জলসীমায় ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারত

সেই সময় অঙ্কিত শর্মা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে প্রথমে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পাশাপাশি অন্যান্য নৃশংসতাও চালানো হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে অমানবিক অত্যাচারের বিবরণ। দিল্লি পুলিশের আইনজীবী আদালতে বলেন, “একজন নিরস্ত্র, নিরীহ পুলিশ অফিসারকে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

Advertisements

অভিযুক্তরা মানবতার সীমা অতিক্রম করেছে।”তাহির হুসেন এই মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দাঙ্গাকারীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং অনকিত শর্মাকে হত্যায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। অন্য চার অভিযুক্তও একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং দাঙ্গার মধ্যে একজন নিরাপত্তা কর্মীর প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা দেখানো হয়েছে।

আরও দেখুনঃ বিহার বনধে ধুন্ধুমার: বিক্ষোভের মাঝে একে-৪৭ দিয়ে গুলি, সাসপেন্ড পুলিশ আধিকারিক

অঙ্কিত শর্মার পরিবার এখনও শোকে মুহ্যমান। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, অনকিত শুধু একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন স্বামী, পিতা ও দায়িত্বশীল মানুষ। তাঁর এমন নৃশংস মৃত্যু পুরো পরিবারকে চিরতরে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে।

দিল্লি পুলিশের মৃত্যুদণ্ডের আবেদনকে পরিবার স্বাগত জানিয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, আদালত কঠোর সাজা দেবে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় মোট ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে অনেক সাধারণ নাগরিক, কয়েকজন পুলিশ কর্মীও প্রাণ হারান। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে বেশ বেগ পেতে হয়। পরবর্তীকালে একাধিক মামলায় তদন্ত চলছে।

তাহির হুসেনের মামলাটি এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিরুদ্ধে দাঙ্গা উস্কানি, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।আদালত এখন সাজা ঘোষণার জন্য দিন ঠিক করবে। ভারতীয় দণ্ডবিধিতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। পুলিশের যুক্তি, এই কেসটি ‘রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এতটাই নৃশংস যে সাধারণ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড যথেষ্ট নয়।

Advertisements