ডিজেলের কালো ধোঁয়া অতীত! এবার আন্দামান-নিকোবরে তৈরী হবে ৫ পারমানবিক বিদ্যুৎ চুল্লি

আন্দামান: ভারত সরকার আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নতুন এক যুগের সূচনা করতে চলেছে(Andaman)। এই সুদূর দ্বীপগুলোতে এখন থেকে ডিজেলের ধোঁয়া আর কালো ধোঁয়ায় ভরা বিদ্যুৎ…

andaman-nicobar-smr

আন্দামান: ভারত সরকার আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নতুন এক যুগের সূচনা করতে চলেছে(Andaman)। এই সুদূর দ্বীপগুলোতে এখন থেকে ডিজেলের ধোঁয়া আর কালো ধোঁয়ায় ভরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিন শেষ হয়ে আসছে। তার বদলে আসছে ছোট ছোট পারমাণবিক চুল্লি। স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর। অন্তত পাঁচটি এমন চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

Advertisements

২০৩৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ২.১২ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আন্দামান-নিকোবরের মানুষেরা বছরের পর বছর ধরে ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে চলেছে। মূল ভূখণ্ড থেকে জাহাজে করে তেল আনা হয়, তারপর সেই তেল দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। খরচ অনেক, পরিবেশ দূষণও কম নয়। আর যখন বড় কোনো ঝড় বা ঝঞ্ঝা আসে, তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ একদম বন্ধ হয়ে যায়।

   

আরও দেখুনঃ ‘বৈশ্বিক কল্যাণে হবে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা,’ ব্রিকস সামিট শুরুর আগে বার্তা মোদীর

এখন এই চিত্রটা পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভাবা পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের একটি দল সেপ্টেম্বরের শুরুতে দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে সম্ভাব্য স্থানগুলো খুঁজে দেখছে। তারা তিনটি জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন কোথায় এই ছোট চুল্লিগুলো নিরাপদে বসানো যায়।এই এসএমআরগুলো আসলে কী? সাধারণ বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় এগুলো অনেক ছোট এবং মডুলার।

Advertisements

কারখানায় তৈরি করে জাহাজে করে নিয়ে গিয়ে একত্রিত করা যায়। (Andaman)জায়গাও লাগে কম। তাই দ্বীপের মতো সীমিত জায়গায় এগুলো স্থাপন করা অনেক সহজ। এক একটা ইউনিট থেকে তিনশো মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এগুলো পরিবেশবান্ধব এবং প্রায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারে।এই পরিকল্পনার পেছনে শুধু বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের বিষয়টাই নয়। দ্বীপপুঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান একে অনেক গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

আন্দামান ও নিকোবর মালাক্কা প্রণালীর খুব কাছে। (Andaman)এই প্রণালী দিয়ে পৃথিবীর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ তেলের বাণিজ্য এবং প্রায় অর্ধেক কন্টেইনার ট্রাফিক চলাচল করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এটি। এখানে ভারতের উপস্থিতি শক্তিশালী করা মানেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও মজবুত করা। বিশেষ করে গ্রেট নিকোবর প্রজেক্টের কথা মাথায় রাখলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সেখানে আন্তর্জাতিক কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, নতুন বিমানবন্দর, বন্দর এবং টাউনশিপ গড়ে তোলার কাজ চলছে। এত বড় পরিকাঠামোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ একান্ত জরুরি।স্থানীয় মানুষের জীবনেও এর প্রভাব পড়বে অনেক।

এখন যেখানে রাতের বেলা বিদ্যুৎ চলে যাওয়া সাধারণ ঘটনা, সেখানে স্থায়ী বিদ্যুৎ পেলে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই আরও ভালোভাবে চলবে। পর্যটন শিল্পও উপকৃত হবে। পরিবেশের দিক থেকেও লাভ। ডিজেলের ধোঁয়া কমলে বাতাস পরিষ্কার থাকবে, আর সমুদ্রের জলও কম দূষিত হবে।

Advertisements