নয়াদিল্লি: ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ক্ষেপণাস্ত্র (Akash missile)ব্যবস্থা এখন আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে। সাবেক ডিআরডিও প্রধান ড. সমীর ভি. কামতের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত এই ব্যবস্থাটি তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানে রফতানি করেছে। মধ্য এশিয়ার এই দুই দেশে আকাশের পৌঁছানো ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আকাশ একটি মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম।(Akash missile) এর কার্যকরী পাল্লা প্রায় ৪.৫ থেকে ২৫ কিলোমিটার। এটি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন বা ইউএভি মোকাবিলা করতে সক্ষম। ডিআরডিওর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ব্যবস্থা ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনীতে ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে। এখন বিদেশেও এর চাহিদা বাড়ছে।ড. কামতের বক্তব্যে বলা হয়েছে, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানে আকাশ রফতানি করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ জ্ঞানেশ কুমারের উত্তরপ্রদেশ সফর স্থগিত, ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক ওড়াল কমিশন
তবে কতগুলো সিস্টেম পাঠানো হয়েছে, কোন ভ্যারিয়েন্ট দেওয়া হয়েছে বা চুক্তির মূল্য কত এসব বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সরকারিভাবেও এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি। তবুও সাবেক ডিআরডিও প্রধানের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।আকাশের আগে আর্মেনিয়া এই ব্যবস্থা কিনেছে। সেখানে এমকে-১এস ভ্যারিয়েন্ট সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর্মেনিয়ার সঙ্গে সফল চুক্তির পর মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর আগ্রহ বাড়ে।
তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সোভিয়েত ও রুশ তৈরি অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। (Akash missile)পুরনো সরঞ্জাম এবং নতুন আকাশ হুমকির কারণে তারা এখন বিকল্প খুঁজছে। ভারতের আকাশ সেই চাহিদা পূরণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা শুধু অস্ত্র বিক্রির বিষয় নয়। মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানোরও একটা সুযোগ।
এই অঞ্চলে চিন ও রাশিয়ার প্রভাব বেশি। সেখানে ভারতীয় প্রযুক্তির প্রবেশ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আকাশের মতো সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যবস্থা রফতানি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সাফল্যকেও তুলে ধরে।ভারত এখন শুধু নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, অন্য দেশের সেনাবাহিনীকেও আধুনিকায়নে সাহায্য করছে। আকাশের পাশাপাশি অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ব্যবস্থারও রফতানি বাড়ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রফতানি ৫০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া।
আকাশ সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।আকাশ ব্যবস্থার বিশেষত্ব হল এর মোবাইল ক্যাপাবিলিটি এবং একাধিক টার্গেট একসঙ্গে আক্রমণ করার সক্ষমতা। রাডার ও কমান্ড সিস্টেম ডিআরডিওর তৈরি। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ভারত ডায়নামিকস লিমিটেড। দেশে সফলভাবে ব্যবহারের পর বিদেশে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
