কড়া পদক্ষেপ! পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে শিখ ধর্ম থেকে বহিস্কার করল অকাল তখ্ত

অমৃতসর: পঞ্জাবের রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে শিখদের (Bhagwant Mann)সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান অকাল তখ্ত র সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। ১৫ জুন অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দির চত্বরে…

akal-takht-against-bhagwant-mann-2026

অমৃতসর: পঞ্জাবের রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে শিখদের (Bhagwant Mann)সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান অকাল তখ্ত র সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। ১৫ জুন অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দির চত্বরে পাঁচজন শিখ প্রধান পুরোহিতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ‘গুরু দ্রোহী’ এবং ‘পন্থ বিরোধী’ ঘোষণা করে ধর্মীয় ফরমান বা হুকমনামা জারি করা হয়েছে। অকাল তখতের ভারপ্রাপ্ত জাতেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গাজরাজ শিখ সম্প্রদায়কে ভগবন্ত মানের সঙ্গে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক পরিহারের আহ্বান জানান।

Advertisements

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে একটি বিতর্কিত ভিডিও। কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে ভগবন্ত মানের মতো দেখতে একজন ব্যক্তিকে শিখ গুরুদের ছবির সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী প্রথম থেকেই ভিডিওটিকে ভুয়ো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি বলে দাবি করেছিলেন। তবে অকাল তখতের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর শিখ ধর্মীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

   

আরও দেখুনঃ https://kolkata24.in/kolkata/kajari-banerjee-and-jui-biswas-seen-at-suvendu-adhikaris-public-programme/

শুধু ভিডিও বিতর্কই নয়, সম্প্রতি পঞ্জাব সরকারের প্রণীত ধর্মীয় অবমাননা বিরোধী আইন নিয়েও অকাল তখত ও রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। অকাল তখতের অভিযোগ, আইনটির কিছু ধারা শিখ ধর্মীয় অনুভূতি এবং পন্থিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা আগে সরকারকে সংশোধনের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আইনটি সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায় পাস হয়েছে এবং তা প্রত্যাহার বা সংশোধনের কোনো প্রশ্ন নেই।

নতুন ফরমান অনুযায়ী, শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, পঞ্জাব মন্ত্রিসভার সদস্য এবং যেসব শিখ বিধায়ক ওই আইনের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন, তাঁদেরও আগামী ২৯ জুন অকাল তখত সচিবালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। ধর্মীয় নেতৃত্বের এই পদক্ষেপকে অনেকেই পঞ্জাবের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

Advertisements

উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ভগবন্ত মানকে শিখ ধর্মীয় রীতি ও কিছু মন্তব্য সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব দিতে অকাল তখতে হাজির হতে হয়েছিল। সে সময় তিনি নিজেকে একজন ‘নম্র শিখ’ হিসেবে উপস্থাপন করে অকাল তখতের কর্তৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঞ্জাবে আগামী নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাবও গভীর হতে পারে। শিখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ায় তা ভোট রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে এখনও এই নতুন ধর্মীয় ফরমান নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে পঞ্জাবের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

Advertisements