নয়াদিল্লি: মাঝআকাশে আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) ফুকেট-দিল্লি উড়ান। গত ৪ অগস্টের ওই ঘটনায় এবার জোড়া চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। একদিকে বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা এয়ারবাসের (Airbus) প্রাথমিক রিপোর্টে তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম বিকল হওয়ার কথা জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ওই বিমানের প্রধান পাইলটের (Pilot-in-command) ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, যেখানে তাঁর শরীরে গাঁজা বা মারিজুয়ানা জাতীয় মাদকের উপস্থিতি মিলেছে!
ঠিক কী ঘটেছিল ওইদিন?
গত ৪ অগস্ট ১৩৭ জন যাত্রী (যাঁর মধ্যে ৩ শিশু) এবং ৮ জন ক্রু মেম্বারকে নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি আসছিল এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটি (উড়ান নম্বর AI2379)। স্থানীয় সময় ভোর ৪টে ২ মিনিট নাগাদ আচমকাই বিমানটি ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) জানিয়েছে, এই আচমকা ঝাঁকুনিতে ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন কেবিন ক্রু আহত হন।
এয়ারবাসের প্রাথমিক রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?
ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (DFDR) বিশ্লেষণ করে এয়ারবাস জানিয়েছে, পর পর বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম বিকল হয়ে গিয়েছিল। ভোর ৪:০২:৪৪-এ প্রথমে ‘গ্রিন হাইড্রোলিক সিস্টেম’ এবং ঠিক এক সেকেন্ডের মধ্যে ‘ব্লু’ ও ‘ইয়েলো’ সিস্টেম বিকল হয়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য বিমানের এলিভেটর এবং কন্ট্রোল সিস্টেম কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অটোপাইলট-২ বিকল হয়ে যায়। এরপর ফার্স্ট অফিসার দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাইড্রোলিক সিস্টেমগুলি ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে। এই ঘটনার পর এয়ারবাস অবিলম্বে ওই বিমানের সমস্ত সিস্টেম এবং কাঠামোগত পরীক্ষার (Structural Inspection) নির্দেশ দিয়েছে। গত এক মাসের রক্ষণাবেক্ষণের রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।
কাঠগড়ায় ‘নেশাগ্ৰস্ত’ পাইলট
যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বিমানের প্রধান পাইলট। ডোপ টেস্টে তাঁর শরীরে মাদকের (মারিজুয়ানা) প্রমাণ মিলেছে। যদিও তদন্তকারীদের কাছে তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন, যার জন্যই রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে কেবিন ক্রুদের অভিযোগ মারাত্মক। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, উড়ান চলাকালীন ওই পাইলট ককপিটের মেঝেতে বসে পড়েন এবং ধূমপান করার চেষ্টাও করেন! ক্রু মেম্বাররা তাঁকে বাধা দেন। পুরো ঘটনাটির উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
