WPI Inflation July 2026: ভারতে পাইকারি মূল্যস্ফীতি বা Wholesale Price Index (WPI)-ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি জুলাই ২০২৬-এ সামান্য কমে ৯.৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুনে এই হার ছিল ৯.৮৭ শতাংশ। শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এই তথ্য সামনে এসেছে।
রয়টার্সের সমীক্ষায় অর্থনীতিবিদরা জুলাইয়ে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ৯.৯৫ শতাংশ হবে বলে অনুমান করেছিলেন। অর্থাৎ বাস্তবে মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে।
নতুন ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষে WPI মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মাসের তুলনায় মাসে পাইকারি মূল্যস্ফীতির হার কমল। চলতি অর্থবর্ষের শুরু থেকে WPI ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
এর পিছনে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহণে বাধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সরকারি তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও সারের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের মতে, জুলাইয়ে WPI মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তির মধ্যে ছিল খনিজ তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, খাদ্যপণ্য, বেসিক মেটাল, খাদ্যপণ্য উৎপাদন, রাসায়নিক ও রাসায়নিকজাত পণ্য এবং অন্যান্য অ-খাদ্যপণ্য।
জ্বালানি ও খাদ্যে কিছুটা স্বস্তি
জুলাইয়ে Fuel & Power বিভাগে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে হয়েছে ২০.০৫ শতাংশ। জুনে এই হার ছিল ২৭.৪১ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও সামান্য স্বস্তি দেখা গিয়েছে। জুলাইয়ে Food Articles-এর মূল্যস্ফীতি কমে ৫.৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে জুনে ছিল ৫.৪৯ শতাংশ। তবে উল্টো ছবি দেখা গিয়েছে উৎপাদিত পণ্যে। Manufactured Products-এর মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে বেড়ে হয়েছে ৮.২৯ শতাংশ, জুনে যা ছিল ৭.৪৮ শতাংশ।
এর আগে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভারতের খুচরো মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ে সামান্য বেড়েছে। Consumer Price Index বা CPI-ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি জুনের ৪.৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাইয়ে ৪.৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিই এর অন্যতম কারণ।
এদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের Monetary Policy Committee চলতি মাসের শুরুতে নীতিগত সুদের হার ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। FY27-এ খুচরো মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। দুর্বল ও অসম দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি এবং El Niño পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও নীতিনির্ধারকদের অবস্থানে ইঙ্গিত রয়েছে।
