বাড়বে বিনিয়োগের সুযোগ! পাঁচটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখে শিল্পনীতি ঢেলে সাজাচ্ছে বাংলা

কলকাতা: পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্পনীতির (Industrial Policy) খসড়া তৈরি করছে বাংলা-সরকার। চলতি অগস্টেই নতুন শিল্পনীতি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল লক্ষ্য, এমন…

west-bengal-new-industrial-policy-five-key-sectors-investment

কলকাতা: পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্পনীতির (Industrial Policy) খসড়া তৈরি করছে বাংলা-সরকার। চলতি অগস্টেই নতুন শিল্পনীতি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল লক্ষ্য, এমন শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যেগুলির হাত ধরে বড় শিল্পের পাশাপাশি আনুষঙ্গিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Advertisements

নতুন শিল্পনীতিতে অগ্রাধিকার পেতে চলেছে বস্ত্র ও পোশাক, লোহা ও ইস্পাত, ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, অটোমোবাইল এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স। এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে ঘিরে বড় বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী ও আনুষঙ্গিক ব্যবসাগুলিকে রাজ্যে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

   

নতুন শিল্পনীতি নিয়ে মঙ্গলবার নবান্নে একটি স্টেকহোল্ডার বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে শিল্পনীতির পাশাপাশি ‘শিল্পের জন্য জমি’ সংক্রান্ত কাঠামো নিয়েও আলোচনা হবে। বৈঠকের পর খসড়াটি মন্ত্রীগোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হবে। এরপর তা রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।

উত্তরবঙ্গেও বিশেষ নজর

নতুন শিল্পনীতিতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্যও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অঞ্চলের শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াতে চা, কাঠ এবং পর্যটন, অর্থাৎ ‘টি, টিম্বার অ্যান্ড ট্যুরিজম’-কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, উত্তরবঙ্গের স্থানীয় সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা।

Advertisements

এক মাসে ২৫টি শিল্পকে জমি দেওয়ার পরিকল্পনা

শিল্প বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার আলাদাভাবে অন্তত ২৫টি শিল্প সংস্থাকে এক মাসের মধ্যে জমির পার্সেল বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।

সরকারের নতুন শিল্প কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বড় শিল্পের সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির সংযোগ তৈরি করা। বড় কারখানা বা শিল্পপ্রকল্প গড়ে উঠলে যাতে স্থানীয় এমএসএমই, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, পরিষেবা প্রদানকারী এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবসাগুলিও লাভবান হয়, সেই লক্ষ্যেই নীতিটি তৈরি করা হচ্ছে।

এর ফলে শুধুমাত্র বড় বিনিয়োগ নয়, শিল্পের চারপাশে একটি বিস্তৃত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগও বাড়বে।

নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মূলত বড় শিল্প বিনিয়োগকে এমএসএমই এবং আনুষঙ্গিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করে একটি বৃহত্তর শিল্প-পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছে। অগস্টে নীতি চূড়ান্ত হওয়ার পরই এর বিস্তারিত রূপরেখা স্পষ্ট হবে।

Advertisements