গ্রাম থেকে Amazon-Flipkart! অনলাইনে বিক্রি হবে ৩ হাজারের বেশি পণ্য

উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ মহিলাদের তৈরি পণ্য এবার আর শুধু স্থানীয় বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা এসএইচজি-র মহিলাদের তৈরি ৩ হাজারেরও বেশি পণ্য…

uttar-pradesh-shg-women-prod ucts-amazon-flipkart-online-sale-3000-products

উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ মহিলাদের তৈরি পণ্য এবার আর শুধু স্থানীয় বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা এসএইচজি-র মহিলাদের তৈরি ৩ হাজারেরও বেশি পণ্য এবার বিভিন্ন বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট (Flipkart), মিশো, প্রেরণা মার্ট, ই-সরস এবং ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স বা ওএনডিসির মাধ্যমে এই পণ্যগুলি অর্ডার করা যাবে।

Advertisements

রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গ্রামীণ মহিলাদের তৈরি পণ্যকে বড় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য অনলাইন এবং অফলাইন, দুই ধরনের বিপণন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ও ব্লক স্তরে ৫৪৩টি প্রেরণা সরস স্টোরও গড়ে তোলা হয়েছে।

   

৩ হাজারের বেশি পণ্যের জন্য তৈরি হয়েছে বাজার

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি পণ্যকে আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রেরণা সরস স্টোরগুলির মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির একটি সংগঠিত ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। এবার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ায় সেই বাজার আরও বড় হবে।

এর ফলে গ্রামের তৈরি পণ্য জেলা বা রাজ্যের বাজার পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতার কাছে পৌঁছতে পারবে। ভবিষ্যতে জাতীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও এই পণ্য পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Advertisements

এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ পণ্যগুলির ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং, বিক্রি এবং ডিজিটাল বিপণনে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট জেলা বা অঞ্চলের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত পণ্যগুলির জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সঞ্চয় ও ঋণের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যবসার দিকে

গ্রামীণ জীবিকা মিশনের মিশন ডিরেক্টর অরুণ কুমার জানিয়েছেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের শুধু সঞ্চয় এবং ঋণ সংক্রান্ত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, উৎপাদনের পাশাপাশি প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা গেলে গ্রামীণ মহিলাদের পরিচালিত ছোট উদ্যোগগুলি আরও বড় পরিসরে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে। অরুণ কুমারের মতে, পণ্য তৈরি করার পর সেটি কোথায় এবং কীভাবে বিক্রি হবে, সেটিই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সমস্যা দূর করতে রাজ্য সরকার ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং, বিপণন এবং বিক্রির জন্য একটি সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক তৈরি করছে।

বিজনোর থেকে শুরু ডিজিটাল বিপণন

ডিজিটাল বাজারে প্রবেশের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিজনোরের স্টেট অ্যাগ্রিগেশন সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন বিপণনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি পণ্যকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার ফলে বিক্রির প্রক্রিয়া আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একটি গোষ্ঠীর তৈরি পণ্য শুধু তার নিজের এলাকার ক্রেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দূরের শহরের ক্রেতার কাছেও পৌঁছতে পারবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই পণ্যগুলির জন্য নতুন ক্রেতা এবং নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।

চাহিদা বুঝে উৎপাদনের সুযোগ

ডিজিটাল বাজারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল, পণ্য প্রস্তুতকারীরা সরাসরি বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবেন। কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, কোন এলাকায় কোন ধরনের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে এবং ক্রেতারা কী ধরনের প্যাকেজিং বা পণ্যের বৈশিষ্ট্য পছন্দ করছেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে উৎপাদনের পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে। অরুণ কুমারের মতে, বাজারের সঙ্গে এই সংযোগ তৈরি হলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজ শুধু জীবিকা নির্বাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ধীরে ধীরে তা ছোট ব্যবসা বা ক্ষুদ্র উদ্যোগের রূপ নিতে পারে।

স্থানীয় দোকান থেকে জাতীয় বাজারে

৫৪৩টি প্রেরণা সরস স্টোর, ৩ হাজারের বেশি পণ্যের জন্য বিপণন ব্যবস্থা এবং একাধিক অনলাইন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মকে একসঙ্গে যুক্ত করার ফলে উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ, গ্রামের মহিলাদের তৈরি পণ্য এখন স্থানীয় দোকান বা সাপ্তাহিক বাজারেই আটকে থাকবে না। প্রেরণা সরস স্টোরের মতো অফলাইন কেন্দ্রের পাশাপাশি অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, মিশো, প্রেরণা মার্ট, ই-সরস এবং ওএনডিসির মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেই পণ্য আরও দূরের ক্রেতার কাছে পৌঁছতে পারবে।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল গ্রামীণ মহিলাদের উৎপাদন ক্ষমতাকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁদের ছোট উদ্যোগগুলিকে আরও সংগঠিত ও ব্যবসায়িক পরিসরে নিয়ে যাওয়া। ফলে স্থানীয় পণ্য ধীরে ধীরে জেলা ও রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে জাতীয় এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

Advertisements