অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রী সিটিতে নিজেদের নতুন মহাকাশযান যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় উৎপাদন শুরু করল সিগমা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানিয়েছে, মাত্র আট মাসের মধ্যে নতুন কারখানাটি নির্মাণপর্ব থেকে সরাসরি উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। অর্থাৎ জমি প্রস্তুত ও নির্মাণকাজ শুরুর পর রেকর্ড আট মাসের মধ্যেই সেখানে মহাকাশযানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু হয়েছে।
শ্রী সিটির এই কারখানা থেকে তৈরি প্রথম দফার নিখুঁতভাবে মেশিনে তৈরি মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ ইতিমধ্যেই সিগমা ইউকে-তে পাঠানো হয়েছে। সেখানে যন্ত্রাংশগুলির চূড়ান্ত যাচাই চলছে। এই যাচাইপর্ব শেষ হওয়ার পর সেগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হবে।
রোলস-রয়েস অ্যারোস্পেসের অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও অগ্রগতি
শ্রী সিটির কারখানাটি রোলস-রয়েস অ্যারোস্পেসের সঙ্গে উৎস পরিবর্তনের অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপও সম্পন্ন করেছে। কোনও মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ কোথায় তৈরি হবে, সেই উৎস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সিগমা জানিয়েছে, তাদের শ্রী সিটির কারখানা সেই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায় সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এটি নতুন কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫,০০,০০০ বর্গফুটের বড় ক্যাম্পাস
শ্রী সিটিতে সিগমা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের মহাকাশযান যন্ত্রাংশ তৈরির পরিকাঠামো একটি বৃহত্তর ৫,০০,০০০ বর্গফুট ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র আট মাসের মধ্যেই প্রায় ৭৫,০০০ বর্গফুট জায়গা কার্যকর করা হয়েছে। এই অংশ থেকে বছরে ১,০০,০০০ মেশিনিং ঘণ্টা উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চাইছে না সংস্থা। প্রথম কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতা ভবিষ্যতে প্রায় ৩,০০,০০০ মেশিনিং ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতে ব্রিটেনের উৎপাদন প্রযুক্তি আনার লক্ষ্য
সিগমা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুনীল কালিদিন্দি জানিয়েছেন, শ্রী সিটির কারখানা সংস্থার বিশ্বব্যাপী মহাকাশযান উৎপাদন সহযোগী হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সংস্থার লক্ষ্য শুধু ভারতে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো নয়। ব্রিটেনে সিগমার যে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতে একই ধরনের উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় তারা।
এর পাশাপাশি মহাকাশযান যন্ত্রাংশ তৈরির পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার আরও বড় অংশ ধীরে ধীরে ভারতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।
বর্তমানে শ্রী সিটির কারখানায় বছরে ১,০০,০০০ মেশিনিং ঘণ্টা উৎপাদন ক্ষমতা চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে তা প্রায় ৩,০০,০০০ মেশিনিং ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি পুরো পরিকাঠামোকে ভবিষ্যতে ৫,০০,০০০ বর্গফুট পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সিগমার দাবি, শ্রী সিটির এই কারখানা ভবিষ্যতে সংস্থার বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এটি দুই অঙ্কের ইবিটা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংস্থা।
শ্রী সিটিকেই কেন বেছে নিল সংস্থা?
দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি এবং ভবিষ্যতে বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগের কারণে শ্রী সিটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিগমা। আন্তর্জাতিক পরিবহণ ব্যবস্থার দিক থেকেও শ্রী সিটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকার সঙ্গে চারটি প্রধান বন্দরের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে বিদেশে মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ রফতানির ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যবস্থা আরও সুবিধাজনক হতে পারে।
শ্রী সিটির কারখানাটি মূলত রফতানিমুখী উৎপাদনকে সামনে রেখে তৈরি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করে তা বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
স্থানীয় দক্ষ কর্মী তৈরিতেও জোর
উৎপাদন পরিকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সিগমা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস। ক্যাম্পাসের মধ্যেই বিশেষায়িত মহাকাশযান উৎপাদন সংক্রান্ত দক্ষতা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে অন্ধ্রপ্রদেশে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন শিল্পের জন্য দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে মহাকাশযান শিল্পের মতো অত্যন্ত নিখুঁত ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন। শ্রী সিটির এই উদ্যোগ সেই দক্ষ কর্মী তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশের শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা
শ্রী সিটিতে উৎপাদন শুরু হওয়াকে অন্ধ্রপ্রদেশে উচ্চপ্রযুক্তি, রফতানিমুখী এবং মহাকাশযান উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান আকর্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন কারখানার মাধ্যমে অন্ধ্রপ্রদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশযান শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থার সংযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে। পাশাপাশি শ্রী সিটিকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মী তৈরির একটি নতুন পরিকাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
প্রথম দফার যন্ত্রাংশ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে সিগমা ইউকে-তে পৌঁছেছে। সেখানে চূড়ান্ত যাচাই শেষ হওয়ার পর গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হবে। ফলে মাত্র আট মাসে নির্মাণপর্ব থেকে উৎপাদনে পৌঁছে যাওয়া শ্রী সিটির এই প্রকল্প সিগমা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের ভারতীয় উৎপাদন পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
