মুম্বই: ভারতের শেয়ার বাজারে (Share Market) সপ্তাহের শেষ দিনের লেনদেনের শুরুটা হল চাপের মধ্যে। শুক্রবার, ১৪ অগস্ট ২০২৬, বৈশ্বিক বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বজায় রয়েছে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স ও নিফটি দুটিই লাল রঙে ছিল।
৩০টি শেয়ারের বিএসই সেনসেক্স ১৭৬.৫৩ পয়েন্ট বা ০.০২ শতাংশ কমে ৭৭,৯০৩.৪৩ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শুরু করে। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি ৩৩.৯৫ পয়েন্ট কমে ২৪,৩৬১.৯০ পয়েন্টে খোলে। এর আগের সেশনে সেনসেক্স ৭৮,০৭৯.৯৬ এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৯৫.৮৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল।
মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপে মিশ্র ছবি
বাজারের বৃহত্তর সূচকগুলিতে দিনের শুরুতে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। বিএসই মিডক্যাপ সিলেক্ট সূচক ৫১.১৬ পয়েন্ট বেড়ে এগোলেও বিএসই স্মলক্যাপ সিলেক্ট সূচক ৭.২৬ পয়েন্ট বা ০.০৮ শতাংশ কমে ৯,১৩৯.৭৬ পয়েন্টে নেমে যায়। বাজারের সামগ্রিক ছবিতে অবশ্য কিছুটা ইতিবাচকতা ছিল। এনএসই-তে লেনদেন শুরুর পর ১,৩৭৩টি শেয়ার বেড়েছে, যেখানে ১,১২০টি শেয়ারের দাম কমেছে। ১০৭টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
সেনসেক্সে কোন শেয়ার এগোল, কোনগুলি পিছোল?
সেনসেক্সের শেয়ারগুলির মধ্যে দিনের শুরুতে বাজাজ ফিনান্স, টিসিএস, টাইটান, এটার্নাল এবং ইনফোসিস ছিল লাভের তালিকায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বাজাজ ফিনান্স। সংস্থাটির শেয়ারদর প্রাথমিক লেনদেনে প্রায় ০.৬০ শতাংশ বেড়েছিল। অন্যদিকে ট্রেন্ট, পাওয়ার গ্রিড, ইন্ডিগো, টাটা স্টিল এবং আল্ট্রাটেক সিমেন্ট ছিল চাপের মুখে। ট্রেন্টের শেয়ারদর প্রায় ১.০৩ শতাংশ কমে যায়।
বাজার নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
চয়েস ব্রোকিংয়ের টেকনিক্যাল রিসার্চ অ্যানালিস্ট হিতেশ টেলরের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারের পরিস্থিতি এখনও সতর্কভাবে ইতিবাচক। অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের শক্তিশালী অবস্থান ভারতীয় বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্তরের কাছাকাছি বাজারের সাম্প্রতিক একত্রীকরণ বা কনসোলিডেশনের কারণে বাজারের উত্থান সীমিত থাকতে পারে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ঘুরে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট শেয়ারে কেনাকাটা বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
গিফট নিফটির ইঙ্গিত কী ছিল?
বাজার খোলার আগে গিফট নিফটি থেকে কার্যত ফ্ল্যাট শুরুর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। আগের ২৪,৪৫৯.৫০ পয়েন্টের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ২৪,৪৪৮.৫০ পয়েন্টে ছিল গিফট নিফটি। এদিকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা টানা দ্বিতীয় দিন ভারতীয় শেয়ারে বিক্রেতা ছিলেন। ১৩ অগস্ট তাঁরা মোট ৫১০.৬৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেন। অন্যদিকে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে বড় অঙ্কের কেনাকাটা করেন। ওইদিন তাঁরা ৪,৩৫৩.০৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কিনেছেন।
এশিয়ার বাজারে মিশ্র প্রবণতা
শুক্রবার এশিয়ার বাজারগুলিতেও মিশ্র ছবি দেখা যায়। ওয়াল স্ট্রিটের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমার প্রভাব এশিয়ার কিছু বাজারে পড়েছে। জাপানের নিকেই ২২৫ ৫২৪.৪১ পয়েন্ট বা ০.৭৭ শতাংশ বেড়ে ৬৮,৮৩৩ পয়েন্টে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি-ও ১০২.৯৪ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে হংকংয়ের হ্যাং সেং ২৩২.৫১ পয়েন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমেছে। সাংহাইয়ের এসএসই কম্পোজিট সূচকও ৮.৩১ পয়েন্ট বা ০.২১ শতাংশ নেমে যায়। ১৪ অগস্ট ভারতীয় বাজারে লেনদেনের শুরুতে চাপ থাকলেও বাজারের ভিতরে কেনাকাটার প্রবণতা পুরোপুরি দুর্বল হয়নি। নিফটি ২৪,৩৫০-এর আশপাশে থাকায় দিনের পরবর্তী লেনদেনে বিদেশি বিনিয়োগ, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাজারের গতিবিধি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
