মুম্বই: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, সপ্তাহের চতুর্থ দিনে বড়সড় ধস নামল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বল পরিস্থিতি, চড়া অপরিশোধিত তেলের দাম, মার্কিন বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী ইয়েল্ড এবং আমেরিকা-ইরান সংঘাত ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার জেরে সকাল থেকেই বিক্রির চাপ ছিল। দুপুর গড়াতেই সেই চাপ আরও বাড়ে।
দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে BSE Sensex ১,২১৪.৩৯ পয়েন্ট বা ১.৬১ শতাংশ পড়ে ৭৩,৬২১.৪৭-এ নেমে যায়। দিনের শুরুতে সূচকটি ছিল ৭৪,২৭২.৪০ পয়েন্টে। অন্যদিকে Nifty 384.90 পয়েন্ট বা ১.৬৩ শতাংশ কমে ২৩,০৬৩.৮৫-এ নেমেছে।
বাজারের এই পতন শুধু বড় সংস্থার শেয়ারে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপের একাধিক সূচকেও বড় পতন দেখা গিয়েছে।
হু হু করে বাড়ল India VIX
বাজারে আতঙ্কের মাত্রা বোঝার অন্যতম সূচক India VIX-এও বৃহস্পতিবার বড় উত্থান হয়েছে। আগের দিনের ১০.৩৫ থেকে ২৬.২৮ শতাংশ বেড়ে India VIX পৌঁছেছে ১৩.১০-এ।
VIX-এর এই উত্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, আগামী দিনে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে ট্রেডারদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন পড়ছে শেয়ার বাজার?
বৃহস্পতিবারের পতনের পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করছে। তার মধ্যে অন্যতম হল বিশ্ব বাজারে বন্ডের ইয়েল্ড বৃদ্ধি। জাপানের ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বেড়ে ৩.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ডও বহু বছরের উচ্চতার কাছে রয়েছে।
বন্ডে রিটার্ন বাড়লে অনেক সময় শেয়ারের তুলনায় স্থায়ী আয়ের সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে ইক্যুইটি বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে।
১০৬ ডলারের কাছে অপরিশোধিত তেল
ভারতের জন্য আরও একটি বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। Brent crude-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে।
ভারত তার প্রয়োজনের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে আমদানি খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং টাকার দামের উপরেও।
আমেরিকা-ইরান সংঘাতেও অনিশ্চয়তা
বিশ্ব বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে আমেরিকা-ইরান সংঘাত। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। তেহরানের অবস্থান এবং আমেরিকার পাল্টা বার্তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। সেই সম্ভাবনাও ভারতীয় শেয়ারে চাপ তৈরি করছে।
ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক শেয়ারে বড় ধাক্কা
বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গিয়েছে আর্থিক ও ব্যাঙ্কিং সংস্থাগুলির শেয়ারে। Nifty Financial Services প্রায় ২.১৪ শতাংশ এবং Nifty Bank ১.৭৬ শতাংশ নেমেছে। Nifty Private Bank-এর পতন প্রায় ২.০৩ শতাংশ।
বড় শেয়ারগুলির মধ্যে Bajaj Finance প্রায় ৫ শতাংশ, Axis Bank প্রায় ৫ শতাংশ এবং Bajaj Finserv ৪ শতাংশের বেশি পড়েছে।
মিডক্যাপেও বিক্রির চাপ যথেষ্ট। Nifty Midcap Select প্রায় ২.৯৭ শতাংশ, Midcap 50 ১.৯৮ শতাংশ এবং Midcap 100 প্রায় ১.৭৪ শতাংশ কমেছে।
বিমা সংস্থার শেয়ারে আলাদা চাপ
এর মধ্যেই বিমা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রকের প্রস্তাবও কিছু বিমা সংস্থার শেয়ারে চাপ বাড়িয়েছে। বিমা ওয়েবসাইটে এমন কিছু ‘dark pattern’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যার মাধ্যমে গ্রাহকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত বা পরিচালিত করা হতে পারে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বৃহস্পতিবারের সামগ্রিক পতনের মূল কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বন্ড ইয়েল্ড এবং অপরিশোধিত তেলের দামই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কোন খাতে তুলনামূলক কম পতন?
সব খাতেই অবশ্য সমান পতন হয়নি। আর্থিক সংস্থার তুলনায় ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত শেয়ারগুলিতে চাপ তুলনামূলক কম। Nifty Pharma ০.২১ শতাংশ এবং Nifty Healthcare ০.৩৪ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে Nifty Metal-এর পতন প্রায় ১.৬২ শতাংশ।
অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের বাজারে মূলত আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি হওয়া ‘risk-off’ পরিস্থিতির প্রভাবই স্পষ্ট। বড় শেয়ার থেকে মিডক্যাপ পর্যন্ত বিস্তৃত বিক্রির চাপে দিনের শেষ ভাগে আরও কোন দিকে বাজার যায়, এখন সেদিকেই নজর বিনিয়োগকারীদের।
অস্ত্রে AI সেন্সর বসাতে মার্কিন সেনার ৪.৭ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি, বদলাতে পারে প্রশিক্ষণ
নয়া মাইলফলক মেক ইন ইন্ডিয়ায়! ২০৩০ র মধ্যেই ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে দেশীয় প্রযুক্তির ট্রেন
