১১ ছোট শহরে বাড়ির দাম ৬৩% বেড়েছে, পিছনে পড়ল বড় ৮ শহর

ভারতের আবাসন (Real Estate) বাজারে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরগুলির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ১১টি ছোট ও উদীয়মান…

11-small-cities-housing-prices-rise-63-percent-real-estate-markets-india

ভারতের আবাসন (Real Estate) বাজারে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরগুলির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ১১টি ছোট ও উদীয়মান শহরে আবাসিক সম্পত্তির দাম গড়ে ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার দেশের শীর্ষ আটটি রিয়েল এস্টেট বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

Advertisements

শুক্রবার কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি বা সিআইআই এবং নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়া যৌথভাবে ‘ইন্ডিয়াজ নেক্সট রিয়েল এস্টেট মার্কেটস’ নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টেই ভারতের রিয়েল এস্টেট বৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ের সম্ভাবনাময় ১১টি বাজারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ভোপাল, ভুবনেশ্বর, চণ্ডীগড় ট্রাইসিটি, গোয়া, ইন্দোর, জয়পুর, কোচি, লখনউ, নাগপুর, বিশাখাপত্তনম এবং কোয়েম্বাটোর।

   

বড় শহরের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে সম্পত্তির দাম

নাইট ফ্র্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ১১টি শহরে আবাসিক সম্পত্তির দাম বৃদ্ধির গতি দেশের আটটি প্রধান রিয়েল এস্টেট বাজারের তুলনায় বেশি। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এই ১১টি বাজারে আবাসিক সম্পত্তির দামের গড় বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার বা সিএজিআর ছিল ৮ শতাংশ। একই সময়ে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআর, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, পুণে, আমদাবাদ এবং কলকাতা মিলিয়ে দেশের শীর্ষ আটটি শহরে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি হিসাবেও ছোট ও উদীয়মান শহরগুলির আবাসন বাজারে দামের বৃদ্ধির হার বড় শহরের তুলনায় দ্বিগুণ ছিল।

২০২১-এর পরেই ব্যবধান আরও বেড়েছে

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দুই ধরনের বাজারের মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১১টি ছোট ও উদীয়মান শহরে আবাসিক সম্পত্তির দাম গড়ে ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে দেশের শীর্ষ আটটি শহরে দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ। নাইট ফ্র্যাঙ্কের মতে, এই প্রবণতা দেখাচ্ছে যে ভারতের আবাসন বাজারের বৃদ্ধির কেন্দ্র ধীরে ধীরে প্রচলিত মহানগরগুলির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে।

Advertisements

কোন শহরগুলিকে সম্ভাবনাময় বলা হয়েছে?

রিপোর্টে চিহ্নিত ১১টি বাজার হল:

  • ভোপাল
  • ভুবনেশ্বর
  • চণ্ডীগড় ট্রাইসিটি
  • গোয়া
  • ইন্দোর
  • জয়পুর
  • কোচি
  • লখনউ
  • নাগপুর
  • বিশাখাপত্তনম
  • কোয়েম্বাটোর

এই শহরগুলির গড় আবাসিক সম্পত্তির দাম বর্তমানে প্রতি বর্গফুটে প্রায় ৪,৫০০ টাকা থেকে ১৩,৫০০ টাকা-র মধ্যে রয়েছে। ফলে মুম্বই, দিল্লি বা বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম প্রবেশমূল্যও এই বাজারগুলির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

শুধু পরিকাঠামো নয়, কর্মসংস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিশির বৈজাল জানিয়েছেন, ভারতের রিয়েল এস্টেট বৃদ্ধির পরিধি ক্রমশ প্রচলিত মহানগরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহর, স্যাটেলাইট মার্কেট এবং নতুন তৈরি হওয়া করিডরগুলিতে বিনিয়োগের সুযোগ শুধুমাত্র পরিকাঠামো তৈরির উপর নির্ভর করবে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পর সেই সুবিধাকে কতটা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করা যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ নতুন রাস্তা, মেট্রো, বিমানবন্দর বা অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি হওয়াই যথেষ্ট নয়। তার সঙ্গে কর্মসংস্থান, ব্যবসা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ভোগব্যয়ের সম্প্রসারণ ঘটলে তবেই একটি শহরে আরও গভীর ও বৈচিত্র্যময় রিয়েল এস্টেট বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

কেন ছোট শহরগুলিতে নজর বাড়ছে?

রিপোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, অর্থনৈতিক কার্যকলাপের বৃদ্ধি এবং ভোগব্যয়ের সম্প্রসারণ ছোট শহরগুলির আবাসন বাজারকে নতুন গতি দিচ্ছে। বিশেষ করে যে শহরগুলিতে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, নতুন ব্যবসা ও শিল্প আসছে, জনসংখ্যা বাড়ছে এবং নগর পরিকাঠামো সেই বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, সেখানে আবাসিক সম্পত্তির বাজার আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে ভারতের রিয়েল এস্টেট বাজারে আগামী দিনে শুধু মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআর বা কলকাতার মতো বড় শহর নয়, ভুবনেশ্বর, ইন্দোর, জয়পুর, কোচি, লখনউ, নাগপুর, বিশাখাপত্তনম ও কোয়েম্বাটোরের মতো উদীয়মান শহরগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?

Read More:  Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা

Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও

Advertisements