নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় ফের ডিজেল সরবরাহ করল ভারত। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের (Friendship Pipeline) মাধ্যমে প্রায় ৪,০০০ মেট্রিক টন, অর্থাৎ প্রায় ৪৭ লক্ষ লিটার ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই চালানটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে পৌঁছেছে।
ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদার প্রেক্ষাপটে এই সরবরাহ আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
৭২তম চালানে এল প্রায় ৪,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল
দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, এটি ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের ৭২তম চালান। ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ডিজেল স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এই চালানে প্রায় ৪,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। পরিমাণের হিসাবে যা প্রায় ৪৭ লক্ষ লিটারের সমান।
১৫ বছরে ২০ লক্ষ টন ডিজেল আমদানির চুক্তি
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৮ সালে হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে ভারত থেকে মোট প্রায় ২০ লক্ষ টন ডিজেল আমদানি করবে। ২০২৩ সালের মার্চে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৩,৩০,০৮৭ টন ডিজেল আমদানি করেছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ভারত থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল বা হাই-স্পিড ডিজেল সরবরাহ করা যায়। এর বার্ষিক পরিবহণ ক্ষমতা ১০ লক্ষ মেট্রিক টন।
২০২৩ সালে উদ্বোধন ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন ২০২৩ সালের মার্চে উদ্বোধন করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে পাইপলাইন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাংলাদেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৫ সাল থেকেই সংস্থাটি বাংলাদেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করছে। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনটি ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দ্বিতীয় আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি পাইপলাইন এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত এনার্জি পাইপলাইন।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার সময়েও ডিজেল সরবরাহ
জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই পাইপলাইনের গুরুত্ব চলতি বছর আরও স্পষ্ট হয়েছে। মার্চে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার সময় বাংলাদেশ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ১৭,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করেছিল। এরপর জুলাই মাসেও ভারত থেকে বাংলাদেশ ৮,০০০ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে। এর আগে এপ্রিল মাসে ২৫,০০০ টন এবং মে মাসে আরও ৮,০০০ টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছিল। অর্থাৎ চলতি বছরে বিভিন্ন সময়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ ঢাকার
চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ভারত সরকারের কাছে অতিরিক্ত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছিল। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহের প্রয়োজনের মধ্যেই এই অনুরোধ আসে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন সেই সহযোগিতাকে সরাসরি জ্বালানি পরিবহণ পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। নতুন এই চালান সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেই বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত থাকার বিষয়টি তুলে ধরছে।
