কলকাতা: কর্মরত থাকা সত্ত্বেও যাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ-এর (EPFO) আওতায় নাম ওঠেনি, তাঁদের জন্য বিশেষ সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যেসব কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আসার যোগ্য ছিলেন, কিন্তু কোনও কারণে ইপিএফ ব্যবস্থায় তাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়নি, তাঁরা বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের সুযোগ পেতে পারেন। এমপ্লয়িজ এনরোলমেন্ট ক্যাম্পেন বা ইইসি ২০২৬-এর মাধ্যমে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ২৯ জুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান চলবে ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অভিযানের মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা স্বেচ্ছায় তাঁদের পুরনো নিয়ম মেনে চলার ঘাটতি সংশোধন করতে পারবেন এবং যোগ্য কর্মীদের কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থার আওতায় আনতে পারবেন।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
ইইসি ২০২৬ মূলত সেইসব কর্মীদের জন্য, যাঁরা ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোনও প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন এবং ওই সময়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আসার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়নি। তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত রয়েছে। কর্মীকে জীবিত থাকতে হবে এবং নিয়োগকর্তা যখন ইইসি ২০২৬-এর অধীনে ঘোষণা করবেন, সেই তারিখেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাঁর চাকরি চালু থাকতে হবে।
অর্থাৎ, এই অভিযান মূলত বর্তমানে কর্মরত যোগ্য কর্মীদের পুরনো নথিভুক্তির ঘাটতি সংশোধনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোনও কর্মী সংস্থা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্ট নতুন করে খোলার সাধারণ ব্যবস্থা হিসেবে এটিকে দেখা যাবে না।
শ্রম মন্ত্রক জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইপিএফ-এর আওতার বাইরে থেকে যাওয়া যোগ্য কর্মীদের নথিভুক্ত করার জন্য নিয়োগকর্তাদের এটি একটি বিশেষ এবং এককালীন সুযোগ। এর মূল লক্ষ্য হল, যেসব কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন কিন্তু আগে সেই সুবিধা পাননি, তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন এবং বিমা-ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।
কর্মীর পুরনো অবদানে বড় ছাড়
ইইসি ২০২৬-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কর্মীর আগের অবদান বা কন্ট্রিবিউশন নিয়ে দেওয়া বিশেষ ছাড়। শ্রম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে অতীতে কর্মীর বেতন থেকে তাঁর অংশের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কেটে না রাখা হয়ে থাকলে সেই কর্মী-অবদান মকুব করা যেতে পারে।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও কর্মী অতীতে কখনও পিএফ-এর আওতায় নথিভুক্ত না হয়ে থাকলে সেই সময়ের কর্মীর অংশের টাকা কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ইইসি ২০২৬ সেই ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের পুরনো নথিভুক্তির ঘাটতি সংশোধনের একটি পথ দিচ্ছে। অর্থাৎ, আগে বেতন থেকে কর্মীর অংশ কেটে রাখা না হয়ে থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে কর্মীকে সেই পুরনো অর্থ নিজের পকেট থেকে জমা দিতে হবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে অতীতের সমস্ত ইপিএফ দায় মকুব হয়ে যাচ্ছে। ইইসি ২০২৬-এর যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
কীভাবে হবে নাম নথিভুক্তি?
ইইসি ২০২৬-এর অধীনে নথিভুক্তির প্রক্রিয়া নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শ্রম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাকে অভিযানের অধীনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মীর জন্য উমং অ্যাপের মাধ্যমে মুখের পরিচয় যাচাই বা ফেস অথেন্টিকেশন ব্যবহার করে ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর বা ইউএএন তৈরি করতে হবে।
এর পর নির্ধারিত ইলেকট্রনিক চালান-কাম-রিটার্ন বা ইসিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীর নথিভুক্তি এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের অবদান জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই কারণে নিয়োগকর্তাদের পুরনো কর্মসংস্থান এবং বেতন সংক্রান্ত নথি ভালোভাবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে কোনও যোগ্য কর্মী পিএফ-এর আওতার বাইরে থেকে গিয়েছিলেন কি না, সেই তথ্য যাচাই করতে হবে।
কর্মীদের এখন কী করা উচিত?
কোনও কর্মী যদি মনে করেন যে তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় থাকা উচিত ছিল, কিন্তু তাঁকে নথিভুক্ত করা হয়নি, তাহলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা মানবসম্পদ বিভাগ বা এইচআর-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কর্মীরা কয়েকটি বিষয় যাচাই করতে পারেন:
- সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইপিএফ-এর নিয়মের আওতায় ছিল কি না।
- ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে তাঁরা ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন কি না।
- তাঁরা ইপিএফ-এর জন্য যোগ্য ছিলেন কি না।
- যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের পিএফ-এর আওতায় আনা হয়নি কি না।
- বর্তমানে তাঁরা ওই প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত আছেন কি না।
- নিয়োগকর্তা ইইসি ২০২৬-এর অধীনে নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন কি না।
শ্রম মন্ত্রক জানিয়েছে, ইপিএফও নিয়োগকর্তা, কর্মী, প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে এই অভিযান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কাজ করছে।
৩১ অক্টোবর শেষ সময়
ইইসি ২০২৬-এর সুযোগ নেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬। তাই কোনও কর্মী মনে করলে যে তাঁকে ভুলভাবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল, তাহলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা উচিত।
যোগ্য কর্মীদের জন্য এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে তাঁরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের পাশাপাশি পেনশন এবং বিমা-ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
অন্যদিকে, নিয়োগকর্তাদের জন্যও এটি অতীতে কর্মীদের নথিভুক্তির ক্ষেত্রে থাকা ঘাটতি নির্দিষ্ট নিয়ম ও ছাড়ের আওতায় একবারে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সুবিধাটি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইইসি ২০২৬-এর নির্ধারিত সময়সীমা এবং সমস্ত যোগ্যতার শর্ত মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
