হরমুজ প্রণালী নিয়ে শান্তি জল্পনায় কমল অপরিশোধিত তেলের দাম, নজরে ইরান-ওমান আলোচনা

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত তেলের দামে (Crude Oil prices) সামান্য পতন দেখা গিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ইরান ও ওমানের মধ্যে চলা আলোচনার দিকে। বাজারের…

crude-oil-prices-fall-hormuz-strait-iran-oman-peace-talks

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত তেলের দামে (Crude Oil prices) সামান্য পতন দেখা গিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ইরান ও ওমানের মধ্যে চলা আলোচনার দিকে। বাজারের একাংশ মনে করছে, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করে, তাহলে গত পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান হতে পারে। একই সঙ্গে পুনরায় খুলে যেতে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি।

Advertisements

বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ৩৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৯.০৮ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫৩ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৪.৬৯ ডলার হয়েছে।

   

এর আগে বুধবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হলেও WTI সামান্য নিম্নমুখী অবস্থায় বাজার বন্ধ করে। তবে টানা দুই দিনের বড় পতনের পর দুই সূচকই কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

বর্তমানে বাজারের প্রধান নজর কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ওমান এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

Advertisements

রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আলোচনায় থাকা একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরান নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে আলোচনায় এটিই হবে সবচেয়ে বড় ছাড়গুলোর একটি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন কখনও সম্মত হবে না। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি চুক্তি খুব শিগগিরই হতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো ধরনের অচলাবস্থা বা পুনরায় চালু হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

এদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও পুরোপুরি কমেনি। ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার তাদের ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

অন্যদিকে, বুধবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা লাল সাগরের ইয়ানবু বন্দরের কাছে এবং গালফ অব এডেনে দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনও এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

তেলের দামের ওপর আরেকটি চাপ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মজুতের তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA) জানিয়েছে, ৩১ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ২৫ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪০৭ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল, ওই সময়ে মজুত ১৫ লাখ ব্যারেল কমবে। কিন্তু বাস্তবে মজুত বেড়েছে, কারণ ওই সপ্তাহে শোধনাগারের কার্যক্রম কিছুটা কমেছে এবং অপরিশোধিত তেলের আমদানিও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এবং অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি তেল মজুত, এই তিনটি বিষয়ই এখন আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Advertisements