ভারতের জন্য Suzuki-এর নতুন টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন, বেশি শক্তি ও কম জ্বালানির লক্ষ্য

গুরুগাঁও: ভারতের বাজারে নিজেদের গাড়ির পাওয়ারট্রেনের বিকল্প আরও বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে সুজুকি (Suzuki)। সংস্থাটি ভারত-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজারের জন্য নতুন প্রজন্মের ডাইরেক্ট-ইনজেকশন টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন তৈরি…

suzuki-new-turbo-petrol-engine-india-ditc-50-percent-thermal-efficiency

গুরুগাঁও: ভারতের বাজারে নিজেদের গাড়ির পাওয়ারট্রেনের বিকল্প আরও বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে সুজুকি (Suzuki)। সংস্থাটি ভারত-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজারের জন্য নতুন প্রজন্মের ডাইরেক্ট-ইনজেকশন টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন তৈরি করছে। নতুন এই ইঞ্জিনের মাধ্যমে একদিকে গাড়ির পারফরম্যান্স বাড়ানো, অন্যদিকে জ্বালানি খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা। প্রযুক্তি সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে সুজুকি এই নতুন ইঞ্জিন প্রযুক্তিকে ডিআইটিসি নামে উল্লেখ করেছে। তবে এখনও ইঞ্জিনটির নির্দিষ্ট ক্ষমতা, পাওয়ার আউটপুট বা কোন গাড়িতে প্রথম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থা।

Advertisements

নতুন টার্বো ইঞ্জিনে পারফরম্যান্স ও মাইলেজে জোর

সুজুকির নতুন ডাইরেক্ট-ইনজেকশন টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিনের অন্যতম লক্ষ্য হল শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা। ভারতের মতো বাজারে পেট্রল গাড়ির পাশাপাশি সিএনজি, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বদলাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত ইন্টারনাল কমবাসশন ইঞ্জিন বা আইসিই-র দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে সুজুকি। নতুন টার্বো ইঞ্জিনটি সেই পরিকল্পনার অংশ। তবে এটি কত সিসির হবে বা কত বিএইচপি শক্তি উৎপন্ন করবে, তা এখনও জানায়নি সংস্থা।

   

Read More: নয়া মাইলফলক মেক ইন ইন্ডিয়ায়! ২০৩০ র মধ্যেই ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে দেশীয় প্রযুক্তির ট্রেন

আইসিই ইঞ্জিনের থার্মাল এফিশিয়েন্সি ৫০ শতাংশ করার লক্ষ্য

শুধু নতুন টার্বো ইঞ্জিন তৈরি নয়, ভবিষ্যতের পেট্রল ইঞ্জিনের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানোর উপরও গবেষণা করছে সুজুকি। সংস্থার গবেষণার লক্ষ্য হল বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি থাকা আইসিই-র থার্মাল এফিশিয়েন্সি ভবিষ্যতে ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। থার্মাল এফিশিয়েন্সি বলতে জ্বালানির মধ্যে থাকা শক্তির কতটা অংশ ইঞ্জিন কার্যকর শক্তিতে রূপান্তর করতে পারছে, তা বোঝায়। দক্ষতা যত বেশি হবে, একই পরিমাণ জ্বালানি থেকে তত বেশি কার্যকর শক্তি পাওয়া সম্ভব। সুজুকির মতে, ইঞ্জিনে উৎপন্ন তাপের যে অংশ কুলিং সিস্টেম ও এক্সহস্টের মাধ্যমে নষ্ট হয়ে যায়, তা কমানোর উপায় খুঁজছে তারা। পাশাপাশি ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ এবং ইঞ্জিনে বাতাস প্রবেশ করাতে যে শক্তি প্রয়োজন হয়, সেই অপচয়ও কমানোর চেষ্টা চলছে।

Advertisements

Read More: ভলভো কারসের নতুন সিইও ক্লাউস জেলমার, ২০২৭ থেকে দায়িত্ব নেবেন

লিন কমবাসশন থেকে ওয়েস্ট-হিট রিকভারি

থার্মাল এফিশিয়েন্সি বাড়ানোর জন্য একাধিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে সুজুকি। এর মধ্যে রয়েছে লিন কমবাসশন, ওয়েস্ট-হিট রিকভারি এবং কম সান্দ্রতার তেল ব্যবহার। লিন কমবাসশনে তুলনামূলকভাবে বেশি বাতাসের সঙ্গে কম জ্বালানি ব্যবহার করে দহন প্রক্রিয়া পরিচালনার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে ওয়েস্ট-হিট রিকভারি প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঞ্জিন থেকে বেরিয়ে যাওয়া তাপের কিছু অংশ কাজে লাগানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তিগুলির সবকটি নতুন ডিআইটিসি উৎপাদন ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হবে কি না, তা সুজুকি এখনও নিশ্চিত করেনি।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ইঞ্জিন?

সুজুকি জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের শক্তি সরবরাহ, পরিকাঠামো এবং গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী আলাদা পাওয়ারট্রেন কৌশল নেওয়া হবে। সেই পরিকল্পনায় ভারতও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ভারতে পেট্রল ইঞ্জিনের পাশাপাশি সিএনজি এবং বায়োগ্যাস নিয়েও কাজ করছে সুজুকি। একই সঙ্গে হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও সংস্থা তাদের প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করছে।

ফলে নতুন টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন ভবিষ্যতে মারুতি সুজুকির গাড়িতে আরও একটি পাওয়ারট্রেন বিকল্প তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বড় গাড়ি বা তুলনামূলকভাবে বেশি পারফরম্যান্সের মডেলে টার্বো ইঞ্জিন ব্যবহার করলে সংস্থার গাড়ির পোর্টফোলিও আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তবে নতুন ইঞ্জিনটি কোন মারুতি সুজুকি মডেলে প্রথম আসবে, কবে উৎপাদনে যাবে এবং এর পাওয়ার বা টর্ক কত হবে, সেই তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তাই আপাতত এটি সুজুকির ভবিষ্যৎ পাওয়ারট্রেন উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Advertisements