গুরুগাঁও: ভারতের বাজারে KTM RC 160-এর দাম বাড়ল। প্রস্তুতকারী সংস্থাটি তাদের এন্ট্রি-লেভেল ফুল-ফেয়ার্ড স্পোর্টস বাইকের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা বাড়িয়েছে। দাম বৃদ্ধির পর কেটিএম আরসি ১৬০-এর নতুন এক্স-শোরুম দাম হয়েছে ২ লক্ষ টাকা।
দাম বাড়ার ফলে কেটিএমের এই স্পোর্টস বাইকটি এখন সরাসরি ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪-এর সঙ্গে আরও কাছাকাছি দামের প্রতিযোগিতায় চলে এসেছে। একই সঙ্গে কেটিএমের নিজস্ব আরসি ২০০ মডেলের সঙ্গেও দামের ব্যবধান কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের জন্য নতুন করে হিসাব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪-এর সঙ্গে দামের ফারাক মাত্র ২ হাজার
কেটিএম আরসি ১৬০-এর নতুন দাম ২ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪-এর দাম প্রায় ১.৯৮ লক্ষ টাকা, এক্স-শোরুম। অর্থাৎ দুই মোটরসাইকেলের মধ্যে দামের ফারাক এখন মাত্র ২ হাজার টাকা।
দামের দিক থেকে এতটা কাছাকাছি হওয়ায় একই ধরনের ক্রেতাদের কাছে দুই বাইকের তুলনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪-এ রয়েছে টিএফটি ইন্সট্রুমেন্ট ডিসপ্লে, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং কুইকশিফটার-এর মতো ফিচার। ফলে একই বাজেটের মধ্যে স্পোর্টস বাইক খুঁজছেন এমন ক্রেতারা কেটিএম আরসি ১৬০ এবং ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪-এর বৈশিষ্ট্য ও পারফরম্যান্স পাশাপাশি দেখবেন।
Also Read | বিশ্বে প্রথম বিদ্যুৎ চালিত ডবল স্ট্যাক ট্রেন চালিয়ে ইতিহাস ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভারতের
আরসি ২০০-ও এখন আরও কাছাকাছি
কেটিএমের নিজস্ব আরসি ২০০-এর দাম বর্তমানে ২.৩২ লক্ষ টাকা, এক্স-শোরুম। অর্থাৎ আরসি ১৬০-এর তুলনায় আরসি ২০০-এর দাম প্রায় ৩২ হাজার টাকা বেশি।
দামের ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় কিছু ক্রেতার কাছে আরসি ২০০ আরও আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। কারণ বড় ইঞ্জিনের পাশাপাশি এই মডেল আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেওয়ার দিকে এগিয়ে রয়েছে।
তাই আরসি ১৬০ কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য এখন একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, অতিরিক্ত ৩২ হাজার টাকা খরচ করে আরসি ২০০ নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত।
Also Read | লাদাখে যুদ্ধযানের জন্য Indian Army কেন XWG ডিজেলের দিকে ঝুঁকছে?
১৬৪.২ সিসি ইঞ্জিনে ১৮.৭৩ বিএইচপি শক্তি
কেটিএম আরসি ১৬০-এ রয়েছে ১৬৪.২ সিসির সিঙ্গল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ১৮.৭৩ বিএইচপি শক্তি পাওয়া যায় ৯,৫০০ আরপিএমে।
সর্বোচ্চ টর্কের পরিমাণ ১৫.৫ নিউটন-মিটার, যা পাওয়া যায় ৭,৫০০ আরপিএমে। ইঞ্জিনের শক্তি পিছনের চাকায় পৌঁছয় ৬-স্পিড গিয়ারবক্সের মাধ্যমে। কেটিএমের দাবি অনুযায়ী, আরসি ১৬০-এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার।
এই ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্সের সমন্বয় মোটরসাইকেলটিকে স্পোর্টি চরিত্র দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চ আরপিএমে পারফরম্যান্সের দিকে গুরুত্ব দেয়।
ট্রেলিস ফ্রেম এবং অ্যাডজাস্টেবল মনোশক
আরসি ১৬০-এ ব্যবহার করা হয়েছে ট্রেলিস ফ্রেম। সামনে রয়েছে ৩৭ মিমি ইনভার্টেড ফ্রন্ট ফর্ক। পিছনে রয়েছে প্রিলোড-অ্যাডজাস্টেবল মনোশক।
ব্রেকিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে সামনে রয়েছে ৩২০ মিমি ডিস্ক ব্রেক এবং পিছনে ২৩০ মিমি ডিস্ক ব্রেক। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস।
স্পোর্টস বাইকের ক্ষেত্রে চ্যাসিস এবং সাসপেনশনের সেটআপ গুরুত্বপূর্ণ। আরসি ১৬০-এর ক্ষেত্রেও কেটিএম স্পোর্টি রাইডিংয়ের দিকে নজর রেখেছে।
আরও কী কী ফিচার রয়েছে?
কেটিএম আরসি ১৬০-এ রয়েছে ১৩.৭৫ লিটারের মেটাল ফুয়েল ট্যাঙ্ক। এছাড়া রয়েছে ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার, ফুল-এলইডি আলো এবং এলসিডি ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার।
ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার এবং স্পোর্টি চ্যাসিসের কারণে বাইকটির রাইডিং পজিশন তুলনামূলকভাবে স্পোর্টি। তবে এই ধরনের রাইডিং পজিশন প্রতিদিনের দীর্ঘ যাতায়াতের জন্য প্রত্যেক রাইডারের কাছে সমান আরামদায়ক নাও হতে পারে।
দাম বাড়ার পর কতটা যুক্তিযুক্ত আরসি ১৬০?
দাম বৃদ্ধির পর কেটিএম আরসি ১৬০ এখন ২ লক্ষ টাকা দামের স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪-এর সঙ্গে দামের ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে।
একদিকে আরসি ১৬০-এর রয়েছে লিকুইড-কুলড ১৬৪.২ সিসি ইঞ্জিন, স্পোর্টি চ্যাসিস এবং ৬-স্পিড গিয়ারবক্স। অন্যদিকে, আর১৫ ভি৪-এ রয়েছে টিএফটি ডিসপ্লে, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং কুইকশিফটারের মতো অতিরিক্ত ফিচার।
আবার মাত্র ৩২ হাজার টাকা বেশি খরচ করলে কেটিএমের আরসি ২০০-তেও যাওয়া সম্ভব। ফলে দাম বৃদ্ধির পর আরসি ১৬০-এর সামনে প্রতিযোগিতা শুধু ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪-এর সঙ্গেই নয়, কেটিএমের নিজস্ব আরসি ২০০-এর সঙ্গেও তৈরি হয়েছে।
