Kia Syros EV কিনবেন? দাম, রেঞ্জ, ব্যাটারি ও ভ্যারিয়েন্ট জানুন

গুরুগাঁও: ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে কিয়া সাইরস ইভি (Kia Syros EV) একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন সংযোজন। কিয়া সাইরসের পেট্রল সংস্করণের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই…

kia-syros-ev-price-range-battery-variants-features

গুরুগাঁও: ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে কিয়া সাইরস ইভি (Kia Syros EV) একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন সংযোজন। কিয়া সাইরসের পেট্রল সংস্করণের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই বৈদ্যুতিক এসইউভি। প্রিমিয়াম ডিজাইন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং একাধিক সুরক্ষা ও আরামদায়ক ফিচারের কারণে শহরের দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে শুরু করে দীর্ঘ উইকএন্ড সফর, দুই ক্ষেত্রেই গাড়িটি ব্যবহার করার কথা মাথায় রাখা হয়েছে।

Advertisements

আপনি যদি কিয়া সাইরস ইভি কেনার পরিকল্পনা করেন, তাহলে শুধু দাম দেখলেই হবে না। কোন ব্যাটারি প্যাক আপনার জন্য উপযুক্ত, কোন ভ্যারিয়েন্টে প্রয়োজনীয় ফিচার রয়েছে, কোন রঙ পাওয়া যাচ্ছে এবং গাড়িটির অন-রোড খরচ কত হতে পারে, সেগুলিও জানা জরুরি। সেই দিক থেকে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সাইরস ইভি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

   

কিয়া সাইরস ইভির দাম ও ভ্যারিয়েন্ট

কিয়া ভারতে সাইরস ইভি দুটি ব্যাটারি প্যাক এবং পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টে এনেছে।
ভ্যারিয়েন্টগুলি হল:
• এইচটিকে
• এইচটিকে প্লাস
• এইচটিএক্স
• এইচটিএক্স প্লাস
• এক্স-লাইন
গাড়িটির এক্স-শোরুম দাম ১৩.৫০ লক্ষ টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
অর্থাৎ, বাজেট অনুযায়ী সাইরস ইভির একাধিক সংস্করণের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টে দুই ধরনের ব্যাটারি প্যাক পাওয়া যাবে না। তাই শুধু ভ্যারিয়েন্ট নয়, ব্যাটারি বিকল্পও কেনার আগে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দুটি ব্যাটারি প্যাকের বিকল্প

কিয়া সাইরস ইভি-তে দুটি ব্যাটারি প্যাক রয়েছে। প্রথমটি হল ৪২ কিলোওয়াট-আওয়ার স্ট্যান্ডার্ড-রেঞ্জ ব্যাটারি। দ্বিতীয়টি হল ৫১.৪ কিলোওয়াট-আওয়ার এক্সটেন্ডেড-রেঞ্জ ব্যাটারি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টের প্রতিটিতে দুই ধরনের ব্যাটারি বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যাটারি বিকল্প দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

তাই আপনার ব্যবহারের ধরন যদি মূলত শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়, তাহলে স্ট্যান্ডার্ড-রেঞ্জ সংস্করণ যথেষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে নিয়মিত দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বড় ব্যাটারি প্যাকের বিকল্পটি বেশি উপযোগী হতে পারে।

পেট্রল সাইরসের সঙ্গে ডিজাইনের মিল

সাইরস ইভি সরাসরি নতুন কোনও ডিজাইন দর্শন থেকে তৈরি হয়নি। এর ভিত্তি হল পেট্রল চালিত সাইরস। ফলে দুই সংস্করণের মধ্যে সামগ্রিক ডিজাইন ভাষায় মিল রয়েছে। গাড়িটির সামনের অংশে রয়েছে অস্বাভাবিক ধরনের বাল্বাস নোজ, উল্লম্বভাবে বসানো হেডল্যাম্প এবং মোটা ক্ল্যাডিংয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়া লাইটিং সেটআপ। এর সঙ্গে রয়েছে বক্সি সিলুয়েট, যা সাইরস ইভিকে রাস্তায় আলাদা পরিচয় দেয়।
তবে ইভি সংস্করণে কয়েকটি ছোটখাটো ডিজাইন পরিবর্তনও রয়েছে। ফলে দেখতে সাইরসের সঙ্গে মিল থাকলেও পুরোপুরি একই গাড়ি নয়।

৯টি একরঙা বিকল্প

রঙের ক্ষেত্রেও ক্রেতাদের জন্য যথেষ্ট বিকল্প রয়েছে। কিয়া সাইরস ইভি ৯টি মনোটোন বা একরঙা বিকল্পে পাওয়া যায়। তবে পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টের সবগুলিতে একই ৯টি রঙ পাওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী রঙের বিকল্প বদলে যেতে পারে। তাই আপনার পছন্দের রঙ যদি কেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে বুকিংয়ের আগে সেই রঙটি আপনার পছন্দের ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা দেখে নেওয়া দরকার।

কোন ভ্যারিয়েন্টে কী ফিচার?

সাইরস ইভির অন্যতম বড় আকর্ষণ হল এর ফিচার তালিকা। বেস ভ্যারিয়েন্ট থেকেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কিয়া। অন্যদিকে, টপ-স্পেক ভ্যারিয়েন্টে আরও বেশি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম ফিচার রয়েছে। এমনকি শীর্ষ সংস্করণের সরঞ্জামের তালিকা তুলনামূলকভাবে উচ্চতর সেগমেন্টের কিছু বৈদ্যুতিক গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। তাই শুধুমাত্র সবচেয়ে বেশি ফিচার পাওয়ার জন্য সরাসরি টপ ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেওয়ার বদলে আপনার প্রয়োজনীয় ফিচার কোন ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে, সেটি আগে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

অন-রোড দাম এক্স-শোরুম দামের থেকে বেশি

সাইরস ইভির ১৩.৫০ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা এক্স-শোরুম দাম দেখেই মোট খরচ ধরে নেওয়া উচিত নয়। গাড়ি কেনার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি, বিমা, টিসিএস এবং অন্যান্য চার্জ যোগ হয়। ফলে শহরভেদে অন-রোড দাম আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে একই ভ্যারিয়েন্টের জন্য বিভিন্ন শহরে রেজিস্ট্রেশন এবং বিমার খরচ আলাদা হওয়ায় চূড়ান্ত দামও বদলে যাবে।

ইএমআইয়ে কিনলে কী দেখবেন?

সাইরস ইভি লোনে কেনার পরিকল্পনা থাকলে শুধু মাসিক ইএমআই দেখলে হবে না। ডাউন পেমেন্ট, ঋণের মেয়াদ এবং সুদের হার একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিন, চার, পাঁচ এবং সাত বছরের মতো বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ নিলে মাসিক ইএমআইয়ের পরিমাণ বদলে যাবে। আবার বেশি ডাউন পেমেন্ট দিলে মাসিক কিস্তি কমলেও শুরুতে বেশি টাকা দিতে হবে। তাই নিজের মাসিক বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের মেয়াদ বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

কার জন্য সাইরস ইভি উপযুক্ত?

কিয়া সাইরস ইভি মূলত সেই ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, যাঁরা একটি ফিচারসমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বৈদ্যুতিক এসইউভি চান। শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি মাঝারি বা দীর্ঘ উইকএন্ড সফরের জন্যও গাড়িটি ব্যবহার করতে চাইলে বড় ব্যাটারি সংস্করণ বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি প্রধান ব্যবহার শহরের মধ্যে হয় এবং গাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে কম রাখতে চান, তাহলে ৪২ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারির সংস্করণ নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

কিয়া সাইরস ইভি কেনার আগে দাম, পাঁচটি ভ্যারিয়েন্ট, ৪২ কিলোওয়াট-আওয়ার ও ৫১.৪ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, ভ্যারিয়েন্টভিত্তিক ফিচার এবং ৯টি রঙের বিকল্প ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে যে ভ্যারিয়েন্ট এবং ব্যাটারি সবচেয়ে ভালোভাবে মেলে, সেটিই নেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Advertisements