ভারতের জনপ্রিয় কমিউটার স্কুটারগুলির মধ্যে হোন্ডা ডিও ১২৫ (Honda Dio 125) অন্যতম। অফিস, কলেজ কিংবা শহরের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং ছোটখাটো কাজের জন্য এই স্কুটারটি ব্যবহার করেন বহু মানুষ। হোন্ডা ডিও ১২৫ বর্তমানে ভারতে STD এবং H-SMART এই দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়। দেখতে দুই ভ্যারিয়েন্ট প্রায় একই রকম হলেও ফিচার এবং ব্যবহারের সুবিধার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। তাই ডিও ১২৫ কেনার আগে কোন ভ্যারিয়েন্ট আপনার জন্য উপযুক্ত, তা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
Honda Dio 125 STD বনাম H-SMART: দামের পার্থক্য

দুই ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে দামের পার্থক্য ₹৪,৯৫০। অর্থাৎ H-SMART ভ্যারিয়েন্ট কিনতে STD-এর তুলনায় প্রায় ₹৫,০০০ বেশি খরচ করতে হবে।
সবচেয়ে বড় পার্থক্য স্মার্ট কি-তে
Honda Dio 125-এর দুই ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন রয়েছে চাবির ব্যবস্থায়। STD ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে প্রচলিত রেগুলার কি। স্কুটার চালু করতে চাবি ব্যবহার করতে হয় এবং এতে সেলফ ও কিক, দুই ধরনের স্টার্টিং অপশনই রয়েছে। অন্যদিকে H-SMART ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে রিমোট স্মার্ট কি। ফলে চাবিটি পকেট থেকে বের না করেও স্কুটার আনলক এবং স্টার্ট করার সুবিধা পাওয়া যায়। প্রতিদিন বারবার স্কুটার ব্যবহার করলে এই সুবিধাটি বেশ কার্যকর হতে পারে।
H-SMART-এ রয়েছে Bluetooth ও নেভিগেশন
প্রযুক্তিগত ফিচারের দিক থেকেও H-SMART এগিয়ে। এই ভ্যারিয়েন্টে Bluetooth কানেক্টিভিটি এবং নেভিগেশন সাপোর্ট রয়েছে। স্মার্টফোনের সঙ্গে স্কুটারটি কানেক্ট করলে ফোনের নেভিগেশন সরাসরি স্কুটারের ডিসপ্লেতে দেখা যায়। ফলে অচেনা জায়গায় যাওয়ার সময় ফোনটি হ্যান্ডেলবারে মাউন্ট করে রাস্তা দেখার প্রয়োজন কমে যায়। যাঁরা নিয়মিত নতুন জায়গায় যাতায়াত করেন বা শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্কুটার চালান, তাঁদের জন্য এই ফিচারটি বাস্তবে বেশ উপকারী হতে পারে।
ইঞ্জিনে কোনও পার্থক্য নেই
পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে কিন্তু দুই ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। STD এবং H-SMART, দুটিতেই একই ১২৩.৯২cc ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৬.১১kW পাওয়ার এবং ১০.৫Nm টর্ক উৎপন্ন করে। ফলে শুধু H-SMART ভ্যারিয়েন্ট কেনার জন্য অতিরিক্ত টাকা দিলে বেশি পাওয়ার বা উন্নত রাইডিং পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ দুই ভ্যারিয়েন্টের রাইডিং অভিজ্ঞতাও মূলত একই।
ব্রেক, টায়ার ও সাসপেনশনও একই
সেফটি ও মেকানিক্যাল হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রেও দুই ভ্যারিয়েন্টে কোনও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। দুই মডেলেই রয়েছে:
- ১৯০mm ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেক
- ১৩০mm রিয়ার ড্রাম ব্রেক
- একই ধরনের টায়ার
- একই সাসপেনশন সেটআপ
- একই ফুয়েল ট্যাঙ্ক
ফলে শুধু H-SMART ভ্যারিয়েন্ট বেছে নিলে ব্রেকিং বা হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা পাওয়া যাবে না।
ডিজাইনও একই
Honda দুই ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রেই একই ডিজাইন রেখেছে। বাইরে থেকে STD এবং H-SMART-এর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন। শুধু তাই নয়, দুই ভ্যারিয়েন্টেই একই রঙের অপশন পাওয়া যায়। অর্থাৎ বেশি দাম দিয়ে H-SMART কিনলে আলাদা ডিজাইন বা বিশেষ পেইন্ট স্কিম পাওয়ার সুবিধাও নেই। ওজনের ক্ষেত্রেও পার্থক্য খুব সামান্য। STD-এর ওজন ১০৫ কেজি, আর H-SMART-এর ওজন ১০৪ কেজি।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
কোন Honda Dio 125 কিনবেন?
যদি আপনার কাছে সাধারণ চাবি, কিক স্টার্ট এবং বেসিক কমিউটার ব্যবহারে কোনও সমস্যা না থাকে, তাহলে STD ভ্যারিয়েন্টই বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ একই ইঞ্জিন, ব্রেক, সাসপেনশন ও ডিজাইন পাওয়ার পরও প্রায় ₹৫,০০০ কম খরচ হবে।
অন্যদিকে প্রতিদিনের ব্যবহারে স্মার্ট কি, Bluetooth কানেক্টিভিটি এবং স্ক্রিনে নেভিগেশন আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলে H-SMART-এর অতিরিক্ত খরচ যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত অচেনা রাস্তায় যান, তাঁদের জন্য নেভিগেশন ফিচারটি বাড়তি সুবিধা দেবে।
সোজা কথায়, পারফরম্যান্সের জন্য STD এবং অতিরিক্ত স্মার্ট ফিচারের জন্য H-SMART। আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারে কোন ফিচারগুলি সত্যিই প্রয়োজন, তার উপরই সেরা ভ্যারিয়েন্টের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
