Hero Motocorp-এর নতুন ডুয়াল-স্পোর্ট বাইকের পেটেন্ট, ফিরছে কি ইমপালস?

কলকাতা: অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেলের বাজারে নতুন মডেল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে হিরো মোটোকর্প (Hero Motocorp)।  সংস্থার করা একটি নতুন ডিজাইন পেটেন্ট সামনে আসার পর ফের জোরালো হয়েছে…

hero-motocorp-dual-sport-bike-patent-impulse-return

কলকাতা: অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেলের বাজারে নতুন মডেল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে হিরো মোটোকর্প (Hero Motocorp)।  সংস্থার করা একটি নতুন ডিজাইন পেটেন্ট সামনে আসার পর ফের জোরালো হয়েছে পুরনো ইমপালস নামটি ফিরে আসার জল্পনা। পেটেন্টের নকশা অনুযায়ী, নতুন মোটরসাইকেলটি তুলনামূলক ছোট, হালকা এবং এয়ার-কুলড ইঞ্জিনের সঙ্গে আসতে পারে। এটি হিরোর অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল লাইনআপে আসন্ন এক্সপালস ৪২১-এর নিচে অবস্থান করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisements

তবে হিরো মোটোকর্প এখনও নতুন বাইকটির নাম, ইঞ্জিনের ক্ষমতা বা লঞ্চের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। ফলে ইমপালস নামটি সত্যিই ফিরবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

   

Also Read | চার-দরজার Ford Mustang আসছে? ৪ সেকেন্ডের কমে ১০০ কিমি গতি!

১৫০ থেকে ২০০ সিসির ইঞ্জিন হতে পারে

পেটেন্টের ছবিতে দেখা নকশায় একটি এয়ার-কুলড ইঞ্জিন রয়েছে। ইঞ্জিনে অয়েল কুলারও দেখা যাচ্ছে না। এই বৈশিষ্ট্য দেখে অনুমান করা হচ্ছে, নতুন মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিনের ক্ষমতা সম্ভবত ১৫০ থেকে ২০০ সিসি-র মধ্যে হতে পারে। এই বাইকটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে বর্তমান এক্সপালস ২০০ ৪ভি এবং এক্সপালস ২১০-এর তুলনায় সহজতর হতে পারে। তবে এর কম ওজন এবং সরল কাঠামো নতুন প্রজন্মের এন্ট্রি-লেভেল অ্যাডভেঞ্চার বাইক হিসেবে এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

Advertisements

এর আগে জয়পুরে একটি ছোট এয়ার-কুলড ইঞ্জিনযুক্ত পরীক্ষামূলক বাইক দেখা গিয়েছিল। সেই পরীক্ষামূলক মডেলের সঙ্গে নতুন পেটেন্টের বাইকের কিছু মিল থাকায় জল্পনা আরও বেড়েছে। পেটেন্টের নকশায় কিক-স্টার্টার লিভার-ও দেখা যাচ্ছে। যদিও উৎপাদন সংস্করণে ইলেকট্রিক স্টার্টার থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ছোট ক্ষমতার ইঞ্জিন ব্যবহারের সম্ভাবনার সঙ্গেও এই বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইমপালস নাম ফিরতে পারে?

নতুন বাইকটির নকশা বর্তমান এক্সপালস সিরিজের তুলনায় পুরনো ইমপালসের সঙ্গে বেশি মিল রয়েছে। বিশেষ করে বাইকের সামগ্রিক আকৃতি এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কের পাশের নকশায় পুরনো ইমপালসের ছাপ রয়েছে। হিরো মোটোকর্পের ইমপালস ছিল ১৫০ সিসির অফ-রোড-কেন্দ্রিক মোটরসাইকেল। সেই নাম বহুদিন ব্যবহার করা হয়নি। নতুন বাইকটি যদি ছোট ক্ষমতার ইঞ্জিন এবং ডুয়াল-স্পোর্ট চরিত্র নিয়ে বাজারে আসে, তাহলে পুরনো নামটি ফেরানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে শুধুমাত্র পেটেন্টের নকশা দেখে বাইকটির নাম ইমপালস হবে বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

hero-motocorp-dual-sport-bike-patent-impulse-return

কার্বুরেটর নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন

পেটেন্টে ইঞ্জিনের বাঁদিকে একটি ফুয়েল ট্যাপ দেখা যাচ্ছে। এর থেকে বাইকটিতে কার্বুরেটর ব্যবহার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভারতের বর্তমান নির্গমন বিধি অনুযায়ী নতুন উৎপাদন মোটরসাইকেলে এই ধরনের কার্বুরেটেড ব্যবস্থা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এই কারণেই অনুমান করা হচ্ছে, পেটেন্টে দেখা নির্দিষ্ট সংস্করণটি হয়তো এমন কোনও বিদেশি বাজারের জন্য তৈরি হতে পারে, যেখানে এখনও কার্বুরেটেড ইঞ্জিনের অনুমতি রয়েছে। অন্যদিকে, বাইকের নকশায় সামনের নম্বর প্লেট এবং সাড়ি গার্ড-এর মতো ভারতীয় বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু উপাদানও রয়েছে। ফলে একই মডেলের ভারতীয় এবং রফতানি সংস্করণ নিয়ে হিরো কাজ করছে কি না, সেই সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

Also Read | মেক ইন ইন্ডিয়ায় ফের বড় ঘোষণা! দেশীয় যুদ্ধ বিমান তৈরিতে রিলায়েন্সের সঙ্গে হাত মেলাল রোলস রয়েস

এক্সপালস সিরিজের থেকে আলাদা নকশা

নতুন বাইকের নকশায় রয়েছে উঁচু সামনের মাডগার্ড, হাই-মাউন্টেড এক্সহস্ট, টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট ফর্ক এবং পিছনে মনোশক। সামনে ও পিছনে দু’চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। টেলল্যাম্পের নকশা হিরো এক্সট্রিম ১২৫আর এবং এক্সপালস ২১০-এর সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। অন্যদিকে হেডল্যাম্পের নকশায় এক্সট্রিম ১৬০আর-এর প্রভাব দেখা যায়। বাইকটির সামগ্রিক গঠন বর্তমান এক্সপালস মডেলগুলির তুলনায় বেশ সরু বলে মনে হচ্ছে। ফলে এটি শহরের রাস্তায় ব্যবহারের পাশাপাশি হালকা অফ-রোডিংয়ের জন্যও উপযোগী হতে পারে।

এখন নজরে এক্সপালস ৪২১

নতুন ডুয়াল-স্পোর্ট বাইক নিয়ে জল্পনা থাকলেও হিরো মোটোকর্পের পরবর্তী নিশ্চিত অ্যাডভেঞ্চার মডেল হল এক্সপালস ৪২১। এই বাইকটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ইআইসিএমএ ২০২৬-এ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন পেটেন্ট করা ছোট বাইকটি এখনও উৎপাদনে যাওয়ার নিশ্চয়তা পায়নি। কারণ কোনও মোটরসাইকেলের ডিজাইন পেটেন্ট করা মানেই সেটি দ্রুত বাজারে আসবে এমন নয়।

তবে ছোট ক্ষমতার এয়ার-কুলড ইঞ্জিন, হালকা গঠন এবং ডুয়াল-স্পোর্ট নকশা যদি শেষ পর্যন্ত উৎপাদন মডেলে রূপ নেয়, তাহলে হিরো মোটোকর্পের অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল পরিবারে এটি একটি নতুন, তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে। আর সেই বাইকের ট্যাঙ্কে যদি সত্যিই ইমপালস নামটি ফিরে আসে, তাহলে পুরনো হিরো ইমপালসের অনুরাগীদের জন্য সেটি নিঃসন্দেহে বড় খবর হবে।

Advertisements