ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার (Tarique Rahman)শাসনকালকে কংসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং পুরোহিতদের সম্মানী বিতরণ করেন। এই মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক উঠেছে।ঢাকার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল মথুরায় কংসের অত্যাচারী শাসনের সময়। কৃষ্ণ কংসকে পরাজিত করে ধর্ম রক্ষা করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কংসের মতো শাসক দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন।
আরও দেখুনঃ ‘মৃত্যুভয় নেই, বিচার এড়াতে দেশ ছাড়িনি’! ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার
বিভিন্ন মতের মানুষ একত্রিত হয়ে সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছেন। (Tarique Rahman)তিনি সরাসরি শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।এই বক্তব্যকে ঘিরে আলোচনা চলছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু অংশ মনে করে, হাসিনার আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মন্দির ভাঙচুর, সম্পত্তি দখল ও হিংসার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। আওয়ামী লীগ হিন্দু ভোটারদের সমর্থন পেতে চেষ্টা করেছে বলেও বলা হয়। তবে অনেক পর্যবেক্ষক বলেন, হাসিনার শাসনামলে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং বড় আকারের গণহত্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। মন্দির নির্মাণ বা সন্ন্যাসীদের জেল হাজতের মতো ঘটনাও সেভাবে প্রকাশিত হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে। (Tarique Rahman)বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ অন্যান্য সংস্থা হামলা, লুটপাট ও মন্দির ভাঙচুরের তথ্য দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী প্রশাসন এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা স্থানীয় বিরোধ বলে বর্ণনা করেছে। পুলিশ কিছু মামলায় গ্রেফতার করেছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
তারেক রহমানের বক্তব্যে হিন্দু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার চেষ্টা দেখা গিয়েছে। (Tarique Rahman)তিনি বলেছেন, সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে উৎসব পালন করতে পারবে। সরকার সব নাগরিকের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন স্থানে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ইস্যু দীর্ঘদিনের।
বিভিন্ন সরকারের আমলেই হামলার অভিযোগ উঠেছে। হাসিনার সময়েও কিছু ঘটনা ঘটেছে, আবার তার পতনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের স্বার্থে সংখ্যালঘুদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগের আমলে হিন্দু ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
