ঢাকাঃ রংপুরের চাঞ্চল্যকর চার খুন মামলায় নতুন মোড় এসেছে। (Rangpur)অভিযুক্ত দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাদের রক্ত বা প্রস্রাবের নমুনায় কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী সোমবার বেলায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আদালতের অনুমতি নিয়ে রবিবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্টরা কারাগারে গিয়ে (Rangpur)প্রস্রাবের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেন। সোমবার দুপুরের দিকে রিপোর্ট হাতে আসে। তাতে স্পষ্ট লেখা আছে, তাদের শরীরে মাদকের কোনো চিহ্ন নেই।পুলিশ আগে যে বক্তব্য দিয়েছিল, তার সঙ্গে এই রিপোর্ট মিলছে না। পুলিশের দাবি ছিল, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তাদের বন্ধু সীমান্ত দাসের বাড়িতে চারটি ইয়াবা সেবন করেছিল।
আরও দেখুনঃ ‘মুসলিম পরিবারের বিষয়’! ভারতের উদ্বেগ উড়িয়ে পাক-সৌদি সামরিক জোটে আগ্রহী ঢাকা
এরপর তারা মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে আরও চারটি ইয়াবা কিনে প্রতিবেশী গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে সেবন করে। (Rangpur)গণপতি তাদের দেখে চিৎকার করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এবং তার পরিবারের আরও তিনজনকে হত্যা করে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও আসামিরা ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল।কিন্তু ডোপ টেস্ট নেগেটিভ আসায় পুলিশের সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনেকেই বলছেন, যদি সত্যিই ইয়াবা সেবন করা হত, (Rangpur)তাহলে নমুনায় তার চিহ্ন পাওয়ার কথা। পুলিশ অবশ্য বলেছে, ঘটনার অনেক দিন পর পরীক্ষা করায় মাদকের অস্তিত্ব নাও পাওয়া যেতে পারে। দু-তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করলে হয়তো পাওয়া যেত। তবে এই ব্যাখ্যা অনেককে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।ঘটনাটি ঘটে ২২ আগস্ট রাতে।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ চারজনের মরদেহ তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। সবাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশী মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেফতার করা হয় এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।এখন ডোপ টেস্ট নেগেটিভ আসায় তদন্তের দিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, তদন্ত অব্যাহত আছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হবে (Rangpur)। ডিএনএ পরীক্ষাও চলছে। তবে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে মাদক যদি মোটিভ না হয়, তাহলে আসল কারণ কী? পুলিশ কি শুরুতেই ভুল তথ্য দিয়েছিল, নাকি অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে?এই মামলাটি শুরু থেকেই আলোচিত। পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্থানীয় মানুষকে হতবাক করে দিয়েছিল।
পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তির কথা জানালেও অনেক প্রশ্ন থেকে গিয়েছিল। এখন ডোপ টেস্টের ফল সেই প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করে তুলেছে।আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত এগোানো উচিত। শুধু জবানবন্দির ওপর নির্ভর করলে বিচার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। পুলিশকে এখন আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, যাতে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হয়।
