পাবনায় ফের নৃশংস খুন হিন্দু শিক্ষিকা! বাঙালি হিন্দুরা চুপ-নিন্দায় সরব তথাগত

ঢাকা: বাংলাদেশের পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলায় এক হিন্দু স্কুল (Gita Rani Das)শিক্ষিকা গীতা রানী দাসের (৪৫) নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা…

gita-rani-das-murder-bangladesh

ঢাকা: বাংলাদেশের পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলায় এক হিন্দু স্কুল (Gita Rani Das)শিক্ষিকা গীতা রানী দাসের (৪৫) নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংক থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।

Advertisements

গীতা রানী আটঘরিয়ার একদন্ত ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামী নন্দ দাস ঢাকায় থাকায় তিনি একাই বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, রাত তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা দেওয়াল কেটে ঘরে ঢোকে। গীতা রানী টের পেলে ধস্তাধস্তি হয় এবং তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ট্যাংকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

   

আরও দেখুনঃ অবস্থা হাতের বাইরে চলে গেলে ব্যবহার করা যাবে পেলেট গান! নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ ঘটনার খবর পেয়ে পাবনার এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসপি আশ্বাস দিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবীন্দ্র ঘোষ বলেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

Advertisements

২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চলছে।” তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ইসলামিস্টরা সংখ্যালঘু হিন্দুদের টার্গেট করছে এটা নতুন কিছু নয়।

আরও দেখুনঃ ভুল স্বীকারের পর সাফাই! মোদীর অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপের ঘোষণা মেটার

কিন্তু পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দুরা এ নিয়ে একটি শব্দও প্রতিবাদ করছেন না এটাই অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাঙালি হিন্দুরা কি একটি ধর্মীয়-ভাষাগত গোষ্ঠী হিসেবে বিলুপ্তির পথে?” তাঁর এই পোস্টে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন হাজার হাজার ঘটনার কথা জানিয়েছে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মন্দির ভাঙচুর, নারী নির্যাতন এবং খুন। অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, অনেক ঘটনাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে উদ্ভূত এবং তদন্ত চলছে। তবে মাইনরিটি অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে হিন্দুরা টার্গেট হয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

আরও দেখুনঃ ভুল স্বীকারের পর সাফাই! মোদীর অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপের ঘোষণা মেটার

পাবনার এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলোতে চরম আতঙ্ক। অনেকে বলছেন, একা থাকা নারী শিক্ষকও নিরাপদ নন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে এ নিয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, যা তথাগত রায়ের মতো নেতাদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Advertisements