বাংলাদেশের দিনাজপুরে চাকরি বাঁচাতে মহেন্দ্রকে হতে হল মাহমুদুল্লাহ

দিনাজপুর (বাংলাদেশ): এক চাকরির জন্য নিজের ধর্ম বিসর্জন দিতে বাধ্য হলেন এক হিন্দু যুবক। (religious conversion)দিনাজপুরের বাসিন্দা মহেন্দ্র নাথ রায়কে তার মালিক স্পষ্ট চয়েস দিয়েছিলেন…

forced-religious-conversion-dinajpur-bangladesh-mahendra-mahmudullah

দিনাজপুর (বাংলাদেশ): এক চাকরির জন্য নিজের ধর্ম বিসর্জন দিতে বাধ্য হলেন এক হিন্দু যুবক। (religious conversion)দিনাজপুরের বাসিন্দা মহেন্দ্র নাথ রায়কে তার মালিক স্পষ্ট চয়েস দিয়েছিলেন হয় ইসলাম গ্রহণ করো, নয়তো চাকরি চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত চাকরি বাঁচাতে মহেন্দ্রকে ধর্মান্তরিত হতে হয়। এখন তার নতুন নাম মাহমুদুল্লাহ।ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর জেলার একটি ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে।

Advertisements

মহেন্দ্র নাথ রায় দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কাজ করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মালিক তাঁকে ডেকে বলেন, প্রতিষ্ঠানে হিন্দু কর্মচারী রাখা সমস্যার সৃষ্টি করছে। তাই তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হবে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবারের দায়িত্বের কথা ভেবে মহেন্দ্র আর বিকল্প খুঁজে পাননি। শেষমেশ তিনি ধর্মান্তরিত হন এবং নাম বদলে মাহমুদুল্লাহ হয়ে যান।

   

আরও দেখুনঃ ধন্যবাদ বিতর্কে উত্তপ্ত শিলিগুড়ি পুরনিগম, সভা বয়কট বিজেপির

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মহেন্দ্র নাথ রায়ের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি খুবই মর্মাহত। বাড়িতে এখনও পুরনো নামেই ডাকা হয় তাঁকে, কিন্তু বাইরের জগতে তাঁকে নতুন পরিচয় নিয়ে চলতে হচ্ছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপের অভিযোগ বহুদিন ধরে উঠছে। দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জমি দখল, মন্দিরে হামলা ও ধর্মান্তরকরণের ঘটনা মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। অনেক হিন্দু পরিবার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ায় চাকরি বা ব্যবসার স্বার্থে এমন চাপ সহ্য করতে বাধ্য হন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্যাটার্নের অংশ।

স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। একজন স্থানীয় হিন্দু নেতা বলেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটলে মানুষের মনে ভয় বাড়বে। সরকারের উচিত এসব ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”

Advertisements
Advertisements