ঢাকা: গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, (textile mills)বিদ্যুৎ সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে বড় ধাক্কার মুখে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে বাংলাদেশ জুড়ে প্রায় ৯০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশের শিল্পাঞ্চলগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের স্বল্পতা উৎপাদন ব্যাহত করছিল। জুলাই মাসে মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও প্রযুক্তিগত সমস্যার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০-৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়।
টেক্সটাইল শিল্পের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন বা BTMA-র দাবি, গ্যাসের অভাবে ৯০০-রও বেশি টেক্সটাইল মিল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি শিল্প সংগঠনের দাবি হিসেবে দেখা উচিত; বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সংকট ও বহু মিল বন্ধ থাকার কথা উঠে এলেও, ৯০০টির বেশি মিল বন্ধের দাবিটির স্বাধীন সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
আরও দেখুনঃ বাংলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে ৪ নয়া গ্রীডে ৪৭৩.০৬ কোটি অনুমোদন
সমস্যার মূল জায়গা গ্যাসের চাপ। (textile mills)নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও নরসিংদীর মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই কারখানাগুলি অনুমোদিত চাপের তুলনায় অনেক কম গ্যাস পাচ্ছে। একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিল্পকারখানার জন্য নির্ধারিত ১০ পিএসআই চাপের বিপরীতে কোনও কোনও মিল মাত্র ১.৫ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছে। ফলে গ্যাসচালিত জেনারেটর, বয়লার এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলএনজি সরবরাহের ধাক্কা। ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি FSRU-তে আগুন ও প্রযুক্তিগত সমস্যার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। (textile mills)বাংলাদেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে শুধু শিল্প নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং সাধারণ গৃহস্থালিও সংকটের মধ্যে পড়ে।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের রফতানিমুখী পোশাক শিল্পেও। কারণ তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য সুতা, কাপড় এবং অন্যান্য উপকরণের বড় অংশই দেশের টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল থেকে আসে। ফলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে উৎপাদন কমলে তার প্রভাব পোশাক কারখানাতেও পৌঁছতে পারে। জুলাইয়ের শেষদিকে গ্যাস সংকটের কারণে পোশাক শিল্পের উৎপাদনক্ষমতা ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন BGMEA সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
আরও দেখুনঃ আগামী বছরেই নর্দার্ন সি রুট দিয়ে প্রথম কার্গো জাহাজ রাশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত
কারখানা বন্ধ বা উৎপাদন কমে যাওয়ার অর্থ শুধু মালিকদের আর্থিক ক্ষতি নয়, (textile mills)এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দেওয়া, ব্যাংক ঋণের কিস্তি মেটানো এবং কাঁচামালের জোগান বজায় রাখা সবই কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির উপরও চাপ তৈরি হতে পারে। গ্যাস সংকটের কারণে রপ্তানি চালান বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কার কথা শিল্প সংগঠনগুলিও জানিয়েছে।
