মোটরসাইকেল আর ফ্যাশনের দুনিয়া সাধারণত আলাদা পথেই এগোয়। তবে এবার সেই সীমারেখা ভেঙে দিল হোন্ডা এবং জাপানের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ওনিতসুকা টাইগার। দুই জাপানি ব্র্যান্ডের নতুন সহযোগিতার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মিলান ফ্যাশন উইকে (Milan Fashion Week ) আত্মপ্রকাশ করল ওনিতসুকা টাইগার হোন্ডা মিড স্পোর্টস কনসেপ্ট। নজরকাড়া হলুদ-কালো রঙের এই মোটরসাইকেলটি ইতিমধ্যেই ফ্যাশন শোয়ের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
২৩ সেপ্টেম্বর ইতালির মিলানে ওনিতসুকা টাইগারের ২০২৭ স্প্রিং-সামার কালেকশনের অনুষ্ঠানে বাইকটির বিশ্বপ্রথম প্রদর্শন হয়। হোন্ডা জানিয়েছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মোটরসাইকেল ও ফ্যাশনের মধ্যে নতুন ধরনের সংযোগ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।
ফ্যাশন শোয়ের মঞ্চে হোন্ডার কনসেপ্ট বাইক
ওনিতসুকা টাইগার হোন্ডা মিড স্পোর্টস কনসেপ্ট একটি মিড-ডিসপ্লেসমেন্ট স্পোর্টস মোটরসাইকেলকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বাইকটির ডিজাইনে ওনিতসুকা টাইগারের পরিচিত ‘টাইগার ইয়েলো’ রং ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে বডির দুই পাশে রয়েছে গাঢ় কালো স্ট্রাইপ।
চোখে পড়ার মতো এই রঙের সংমিশ্রণ বাইকটিকে প্রচলিত স্পোর্টস মোটরসাইকেলের তুলনায় আলাদা চরিত্র দিয়েছে। কালো অ্যালয় হুইলের সঙ্গে রাখা হয়েছে টাইগার ইয়েলো অ্যাকসেন্ট। পাশাপাশি বাইকে রয়েছে হোন্ডা এবং ওনিতসুকা টাইগার, দুই ব্র্যান্ডের লোগো।
হোন্ডার বক্তব্য অনুযায়ী, রঙ থেকে শুরু করে বাইকের ছোটখাটো ডিটেল পর্যন্ত সহযোগিতার ভাবনাকে তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র একটি নতুন ডিজাইনের মোটরসাইকেল নয়, বরং দুই জাপানি ব্র্যান্ডের পরিচয়কে একসঙ্গে তুলে ধরার একটি প্রদর্শনী মডেল।
উৎপাদনে আসবে না এই মোটরসাইকেল
এই কনসেপ্ট বাইক নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি বাজারে বিক্রির জন্য তৈরি করা হয়নি। হোন্ডার ঘোষণা অনুযায়ী, ওনিতসুকা টাইগার হোন্ডা মিড স্পোর্টস কনসেপ্ট বর্তমানে শুধুমাত্র দুই ব্র্যান্ডের সহযোগিতাকে তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে একই ডিজাইনের বাইক শোরুমে আসবে, এমন কোনও ঘোষণা হোন্ডা করেনি। ফলে এই মডেলকে আপাতত একক কনসেপ্ট হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জাপানের দুই ব্র্যান্ডের ৭৫ বছরের বেশি ইতিহাস
হোন্ডা এবং ওনিতসুকা টাইগারের মধ্যে এই সহযোগিতার পিছনে রয়েছে দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ইতিহাস। হোন্ডা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে। তার এক বছর পর, ১৯৪৯ সালে জাপানের কোবে শহরে ওনিতসুকা টাইগারের যাত্রা শুরু হয়। দুই ব্র্যান্ডই জাপানে নিজেদের প্রযুক্তি, ডিজাইন এবং উৎপাদন দক্ষতার ভিত্তিতে ব্যবসা তৈরি করেছে। বর্তমানে দু’টি সংস্থাই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত নাম।
হোন্ডা মূলত মোটরসাইকেল ও মোবিলিটি প্রযুক্তির জন্য পরিচিত। অন্যদিকে ওনিতসুকা টাইগার স্পোর্টস জুতো দিয়ে যাত্রা শুরু করে পরে ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে। এই দুই ভিন্ন জগতের সংযোগই এবার মিলানের ফ্যাশন মঞ্চে দেখা গেল।
বাইকের পাশাপাশি পোশাক ও জুতোর কালেকশন
শুধু মোটরসাইকেল প্রকাশ করেই থামেনি এই সহযোগিতা। মিলান ফ্যাশন উইকে ওনিতসুকা টাইগার হোন্ডার সঙ্গে সহযোগিতার অংশ হিসেবে এমন পোশাক এবং জুতোর কালেকশনও দেখিয়েছে, যেখানে হোন্ডার মোটরসাইকেলের প্রতীকী উইং মার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এই কালেকশনের ডিজাইনে মোটরসাইকেল সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সহযোগিতার মাধ্যমে মোটরসাইকেলকে শুধু একটি যানবাহন হিসেবে নয়, বরং একটি লাইফস্টাইল ও সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

হলুদ-কালো রঙের সঙ্গে ওনিতসুকা টাইগারের ইতিহাস
ওনিতসুকা টাইগারের হলুদ-কালো রঙের ব্যবহার ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন নয়। এই রঙের সংমিশ্রণ আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা পায় ব্রুস লি অভিনীত ১৯৭৮ সালের ছবি গেম অব ডেথ-এর মাধ্যমে। পরে কুয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর কিল বিল ছবিতে উমা থারম্যানের পোশাকেও একই ধরনের হলুদ-কালো নান্দনিকতা দেখা যায়। এই পরিচিত রঙের সংমিশ্রণই এবার মোটরসাইকেলের বডিতে ব্যবহার করেছে হোন্ডা এবং ওনিতসুকা টাইগার।
মোটরসাইকেল সংস্কৃতিকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য
হোন্ডার মতে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মোটরসাইকেল সংস্কৃতিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পরিচিত ও সহজলভ্য করে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। মোটরসাইকেল, পোশাক এবং জুতোর মতো আলাদা ক্ষেত্রকে একসঙ্গে তুলে ধরে নতুন ধরনের দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দুই ব্র্যান্ড।
মিলান ফ্যাশন উইকে ওনিতসুকা টাইগারের ২০২৭ স্প্রিং-সামার কালেকশনের সঙ্গে এই কনসেপ্ট বাইক প্রকাশ সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। বাইকটি উৎপাদনে না এলেও, হোন্ডা এবং ওনিতসুকা টাইগারের এই সহযোগিতা মোটরসাইকেল ডিজাইন ও ফ্যাশনের মধ্যে নতুন একটি সংযোগের উদাহরণ হয়ে থাকছে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.
