নয়াদিল্লি: ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ এয়ার স্টাফ এয়ার মার্শাল ( warfare India)তেজপাল সিং আজ এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন। ‘ফিফথ জেনারেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শিরোনামের এই বিশেষ বক্তৃতায় তিনি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের দিকে এগোতে গেলে আগে আমাদের যা আছে তা খুঁজে বের করতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং একইসঙ্গে আগামী দিনের জন্য শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ( warfare India)এয়ার মার্শাল তেজপাল সিং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে পঞ্চম প্রজন্ম এবং পরবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে রূপান্তরের আগে তাৎক্ষণিক অপারেশনাল চাহিদাগুলো পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের আদর্শ পরিস্থিতির জন্য বিশ বছর অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না। বর্তমানে যা প্রয়োজন তা এখনই যুক্ত করতে হবে।
আরও দেখুনঃ পঞ্জাব দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েই ধামিকে দিয়ে নেশা মুক্তি অভিযান বিজেপির
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমশ স্বচ্ছ, সংযুক্ত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই ভারতকে এগোতে হবে।তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা যুক্ত করতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করা যায় না। দ্রুত একীকরণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে সেগুলো কাজে লাগানো যায়। ভারতকে এমন যুদ্ধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যা বর্তমান চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহজেই পঞ্চম প্রজন্ম এবং তারও পরের প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।
শুধু নতুন প্রজন্মের যোদ্ধা বিমানের অপেক্ষায় বসে থাকলে হবে না। সামগ্রিক কাঠামো এখন থেকেই শক্তিশালী করতে হবে।এয়ার মার্শাল তেজপাল সিং-এর (warfare India)এই বক্তব্য এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর মূল ভাষণের পর এই বিশেষ আলোচনায় তিনি বিমানবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজকের যুদ্ধ শুধু স্থল, জল ও আকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার, মহাকাশ এবং মানব মনের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে ভারতকে এগিয়ে থাকতে হলে সক্ষমতার সঠিক মূল্যায়ন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।এই সামিটে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, আত্মনির্ভরতা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ওপর বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। এয়ার মার্শাল তেজপাল সিং সেই আলোচনায় বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমান সক্ষমতাগুলোকে উপেক্ষা করে শুধু ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখলে চলবে না।
যা আছে তা কাজে লাগিয়ে, যা দরকার তা দ্রুত সংগ্রহ করে এবং আগামী দিনের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেই এগোতে হবে।বিমানবাহিনীর এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য দেশের প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ প্রযুক্তি বিশ্বের অনেক দেশেই এখন বাস্তবতা হয়ে উঠছে। ভারতকে সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকলে চলবে না। একইসঙ্গে বর্তমান অপারেশনাল চাহিদা পূরণ না করলে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই দুই দিকের ভারসাম্য রক্ষা করে এগোতে হবে।
