কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার আজ কলকাতায় এক গুরুত্বপূর্ণ (Bengal tourism)বিনিয়োগকারী সম্মেলনের আয়োজন করেছে। যেখানে পর্যটন খাতে ২৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের পর্যটন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে যে এই সম্মেলনে প্রায় পঁচিশজন বিনিয়োগকারী অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিবেশী দেশ থেকেও এসেছেন। প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা বা তারও বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব আসতে পারে বলে সরকার আশাবাদী।
এই উদ্যোগকে রাজ্য সরকার পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে মিরিক হ্রদের ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নের জন্য সাতান্ন কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হ্রদের চারপাশের পরিবেশ সংরক্ষণ করে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় সুবিধা তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে কলকাতা, ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হুগলি, নদিয়া ও বরানগরে পর্যটক জেটি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরও দেখুনঃ হরমুজ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, রিয়াদে হুথি ড্রোন হামলা
এতে গঙ্গার তীরবর্তী এলাকাগুলিতে নৌযাত্রার সুবিধা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। (Bengal tourism)এছাড়া একশো আটটি ধর্মীয় সার্কিটের জন্য ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। বিষ্ণুপুরের মন্দির নগরী উন্নয়নে আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিকে আরও সুন্দর করে তুলবে এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।
সরকার ‘এক জেলা, এক গন্তব্য’ পর্যটন নীতি গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি জেলার বিশেষত্বকে তুলে ধরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। উপজাতীয় পর্যটনের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে পাহাড়ি ও বনবাসী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা যায় এবং স্থানীয় মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ে।দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্সিয়ং এলাকায় রোপওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আরআইটিইএস সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুরুলিয়াতেও একই ধরনের সমীক্ষা চলছে। এই রোপওয়ে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি অঞ্চলে যাতায়াত আরও সহজ ও উপভোগ্য হবে। (Bengal tourism)পর্যটকরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও উপকৃত করবেন। রাজ্য সরকার মনে করছে, এই সব প্রকল্প একসঙ্গে এগোলে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।আজকের এই সম্মেলনে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি সরকারি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তাদের প্রশ্ন ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রকল্পগুলির নকশা আরও পরিমার্জিত হতে পারে। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবেন যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সমর্থন ও পরিকাঠামোগত সুবিধা দ্রুত সরবরাহ করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিশেষ সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে তারা সহজেই এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
