যোগী রাজ্যে অনুপ্রেরণার গল্প! ২৭ বছর চেষ্টার পর ৫৯ বছরে সরকারি শিক্ষক বিজয় শর্মা

উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার বড়ৌত এলাকার বাধওয়াদ গ্রামের বাসিন্দা বিজয় কুমার শর্মা (Vijay Kumar Sharma)এখন সরকারি শিক্ষক। ৫৯ বছর বয়সে তিনি অবশেষে সরকারি শিক্ষকতার চাকরি…

vijay-kumar-sharma-government-teacher

উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার বড়ৌত এলাকার বাধওয়াদ গ্রামের বাসিন্দা বিজয় কুমার শর্মা (Vijay Kumar Sharma)এখন সরকারি শিক্ষক। ৫৯ বছর বয়সে তিনি অবশেষে সরকারি শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছেন। এই সাফল্য অর্জন করতে তাকে ২৭ বছর ধরে লড়াই করতে হয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করা সেই যাত্রা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে।বিজয় কুমার শর্মা টিজিটি সংস্কৃত শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

Advertisements

তিনি শামলি জেলার একটি সহায়তাপ্রাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেবেন। ২২ সেপ্টেম্বর লখনউয়ের ইন্দিরা গান্ধী প্রতিষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাত থেকে তিনি নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। (Vijay Kumar Sharma)এই মুহূর্ত তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের দিন হয়ে উঠেছে।দীর্ঘ এই পথে তিনি বহুবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। টিজিটি লিখিত পরীক্ষা তিনি ছয়বার পাস করেছেন। পিজিটি পরীক্ষা চারবার ক্লিয়ার করেছেন। ইন্টারভিউতেও প্রায় আটবার ডাক পেয়েছিলেন।

   

আরও দেখুনঃ নির্ভুল লক্ষ্যভেদ করে ফের নিজের সক্ষমতার প্রমান দিল সিঁদুরে ব্যবহার হয়ে স্বদেশি স্কাইস্ট্রাইকার

কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠত না। অনেক সময় মনে হয়েছে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। তবু তিনি হাল ছাড়েননি। এবার ইন্টারভিউ বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই সুযোগই তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে।এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি প্রায় ২৬ বছর বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। দিনের বেলা ছাত্রদের পড়াতেন, রাতে বা ফাঁকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন। তিনি হিন্দি ও সংস্কৃত পড়াতেন বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলে।

Advertisements

পরিবারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিজের স্বপ্নও ধরে রেখেছিলেন। তার বাবা লক্ষ্মণ সিংও সরকারি শিক্ষক ছিলেন। বাবার মতো সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্নই তাকে এতদিন এগিয়ে নিয়ে গেছে।বিজয় কুমার শর্মার পাঁচ সন্তান। তার মেয়ে মমতাও একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। মেয়ের নাম এখনও অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। তিনি আশা করছেন শীঘ্রই মেয়েও নিয়োগপত্র পাবেন। পরিবারের জন্য এটি দ্বিগুণ আনন্দের মুহূর্ত।

দুই ছেলে উত্তর প্রদেশ পুলিশে চাকরি করেন। পুরো পরিবার এখন গর্বিত।৫৯ বছর বয়সে চাকরি পেলেও তিনি বলেন, এখনও সময় আছে। নিয়ম অনুসারে ৬২ বছরে অবসর নেবেন। অন্তত দুই বছরেরও বেশি সময় সরকারি শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, অনেক ভুল করেছেন, সেগুলো শুধরে আবার চেষ্টা করেছেন। আজ মনে হয় সেই সব বছরের সংগ্রাম সার্থক হয়েছে।তার এই গল্প অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। বয়স বা বারবার ব্যর্থতা কাউকে থামিয়ে দিতে পারে না যদি ইচ্ছাশক্তি মজবুত থাকে।

বিজয় কুমার শর্মা প্রমাণ করেছেন যে ধৈর্য ও পরিশ্রম একদিন সফলতা এনে দেয়। অনেক যুবক যারা চাকরির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের জন্য এটি বড় শিক্ষা। হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।সরকারি চাকরির এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত জয় নয়।

এটি একজন সাধারণ মানুষের অদম্য সংকল্পের গল্প। (Vijay Kumar Sharma)বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করে পরিবার চালানোর পাশাপাশি নিজের লক্ষ্যে অটল থাকা সহজ নয়। তবু তিনি করে দেখিয়েছেন। এখন তিনি সরকারি শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের পড়াবেন। তার অভিজ্ঞতা ও জীবনযুদ্ধের গল্প নিশ্চয়ই ছাত্রদের অনুপ্রাণিত করবে।

Advertisements