নয়াদিল্লি: ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) যেমন পেমেন্ট ব্যবস্থা, পরিচয় যাচাইকরণ ও ডিগিলকার নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তুললেও এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সমাজের প্রতিটি মানুষ কতটা স্বাধীন, নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসীভাবে এটি ব্যবহার করতে পারছেন তার ওপর। সম্প্রতি জাতীয় নমুনা সমীক্ষা সংস্থার (NSS) টেলিকম সংক্রান্ত একটি সমীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দেশের প্রবীণ নাগরিকদের ডিজিটাল প্রবেশাধিকার, দক্ষতা এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে বয়সের এক বিরাট ব্যবধান বা ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ রয়ে গেছে।
ডিজিটাল সুযোগ থেকে পিছিয়ে প্রবীণরা
ডিভাইস ও ইন্টারনেটের অভাব: ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের অর্ধেকের বেশি মানুষ কেবল বেসিক বা ফিচার ফোনের ওপর নির্ভরশীল। সমস্ত ডিভাইস মিলিয়ে মাত্র দুই পঞ্চমাংশ প্রবীণ ইন্টারনেট ব্যবহারের সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন। ৫০-৫৯ বছর বয়সিদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের হার যেখানে ৫৭.৯%, সেখানে ৬০-৬৯ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে তা নেমে দাঁড়ায় ৪৪.৭%-এ এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে তা মাত্র ৪২% (তুলনায় ১৮-৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এই হার ৮৮.৬%)।
কাজের দক্ষতার ফারক: বয়স্ক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মতো কাজ করার প্রবণতা কম বয়সীদের তুলনায় অনেকটাই কম। প্রবীণদের মধ্যে মাত্র ৫৩.১% মানুষ অনলাইন ব্যাঙ্কিং করতে পারেন, যেখানে তরুণদের ক্ষেত্রে এই হার ৭১.৪%। ছোট হরফ, জটিল স্ক্রিন, একাধিক ভেরিফিকেশন স্টেপ এবং ইংরেজি ভাষার আধিক্য অনেক সময় প্রবীণদের নির্ভরশীল করে তোলে অন্যদের ওপর।
লিঙ্গ বৈষম্য: বয়সের এই ব্যবধানের পাশাপাশি রয়েছে লিঙ্গভিত্তিক ফারাকও। পুরুষদের তুলনায় প্রবীণ মহিলাদের ডিজিটাল অ্যাক্সেস এবং অনলাইন সক্ষমতা অনেকটাই কম, যা তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যেরই প্রতিফলন।
সবচেয়ে বড় সংকট: নিরাপত্তা ও প্রতিকার
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবীণদের নিয়মিত যাতায়াত বাড়লেও সাইবার সুরক্ষা ও প্রতারণা সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা অত্যন্ত কম। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মাত্র ৮% জানেন কীভাবে সাইবার ক্রাইম পোর্টালের মাধ্যমে অপরাধের অভিযোগ জানাতে হয় বা প্রতারণার প্রতিকার পেতে হয় (তরুণদের ক্ষেত্রে এই হার ২৪.২%)।
প্রবীণ মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৬% এবং গ্রামীণ প্রবীণদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৪%। সুরক্ষা এবং অভিযোগ জানানোর উপায় না জানা থাকায় এই বয়সিরা সাইবার জালিয়াতি, ফিশিং বা প্রবঞ্চনার শিকার হয়ে অনেক সময় ডিজিটাল মাধ্যম থেকেই গুটিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের।
প্রবীণ নাগরিকদের ডিজিটাল যুগে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরাপদ রাখতে কেবল সংযোগ বা পরিকাঠামো বাড়ালেই চলবে না, বরং সহজ ইন্টারফেস তৈরি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতারণা রুখতে বিশেষ সহায়তামূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
২০ বছর ধরে NTPC তে চাকরি! ছত্তিশগড়ে ভুয়ো নথি সহ গ্রেফতার বাংলাদেশি আতিক হুসেইন
