হায়দরাবাদে চিকিৎসার নামে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগ। (fake doctor)মাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেই নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি ক্লিনিক চালানোর অভিযোগ উঠেছে ২৩ বছরের এক যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের চিকিৎসা করার পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন দেওয়া এবং ওষুধ সরবরাহ করার অভিযোগে ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় তার মা এবং ভাইয়ের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা দু’জনই বর্তমানে পলাতক।
অভিযুক্ত যুবকের নাম আদনান। (fake doctor)পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তিনি ইন্টারমিডিয়েট বা দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোনও স্বীকৃত ডিগ্রি বা প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা এলাকায় ‘Hikma Sehath Care Centre’ নামে একটি কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ওই কেন্দ্রে প্রথমে সহায়ক চিকিৎসাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন আদনান। পরবর্তী সময়ে নিজেই রোগীদের চিকিৎসা করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
আরও দেখুনঃ ‘আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাটক করা বন্ধ কর!’ রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের
পুলিশের দাবি, আদনান তাঁর মা সাবা খান ওরফে মোহাম্মদি বেগম এবং ভাই মহম্মদ ফয়জানের সঙ্গে মিলে নিজেদের বংশপরম্পরায় চিকিৎসা করে আসা ‘হাকিম’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁদের কাছে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা বৈধ লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষ তাঁদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। রোগীদের মধ্যে যৌনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বারবার বমি, তীব্র শরীরের ব্যথা, কিডনি বা কোমরের পাশের অংশে ব্যথা এবং প্রস্রাবের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ, শুধু রোগী দেখাই নয়, অভিযুক্তরা তাঁদের প্রেসক্রিপশনও দিতেন এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সরবরাহ করতেন। (fake doctor)পুলিশের দাবি, সেই ওষুধের অনেকগুলিই ছিল লেবেলহীন। ফলে ওষুধের প্রকৃতি, উপাদান বা সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে রোগীদের কাছে পরিষ্কার তথ্য থাকার সুযোগও ছিল না। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেই এই কাজ চালানো হচ্ছিল।
এই ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, তা নিয়েও তদন্তে বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৩ সালে আদনানের পরিচয় হয় BUMS বা Bachelor of Unani Medicine and Surgery চিকিৎসক মুনারওয়া বেগমের সঙ্গে। এরপর তিনি ওই কেন্দ্রে সহায়ক চিকিৎসাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে আদনান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে ওই চিকিৎসকের একটি আর্থিক ব্যবস্থা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। সেই ব্যবস্থায় চিকিৎসককে প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা দেওয়া হতো এবং তিনি মাঝে মধ্যে ক্লিনিকে আসতেন বলে অভিযোগ। পুলিশ বলছে, পরবর্তী সময়ে আদনান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকেন।
তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, এই চিকিৎসা পরিষেবার প্রচারও করা হতো সামাজিক মাধ্যমে। Facebook ও Instagram-এ প্রচার চালানোর পাশাপাশি SACH NEWS-এ প্রকাশিত প্রচারমূলক কনটেন্টের মাধ্যমেও ওই কেন্দ্রের পরিষেবা সম্পর্কে মানুষকে জানানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর ফলে আরও বেশি মানুষ ওই কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
অভিযানের সময় পুলিশ কেন্দ্র থেকে বেশ কিছু নথি ও সামগ্রী উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসক্রিপশন বই এবং ওষুধ, যেগুলির গায়ে মার্কার পেন দিয়ে বিভিন্ন কোড বা নাম লেখা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়াও ‘Dr Adnan Official’ নামে একটি Facebook পেজের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচটি বই উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের কার্যকলাপ এবং তাঁদের প্রচারের ধরন সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
