‘আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাটক করা বন্ধ কর!’ রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের

জেনেভা: রাষ্ট্রসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের মঞ্চে ভারত পাকিস্তানের (India Pakistan)বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগি পাকিস্তানের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন,…

india-pakistan-unhrc-response

জেনেভা: রাষ্ট্রসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের মঞ্চে ভারত পাকিস্তানের (India Pakistan)বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগি পাকিস্তানের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীর ছিল, আছে এবং চিরকাল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকবে। তিনি পাকিস্তানকে সন্ত্রাস রফতানি ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাটকীয়তা দেখানোর পরিবর্তে নিজেদের অর্থনীতির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

Advertisements

রাষ্ট্রসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম নিয়মিত অধিবেশনে পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করলে ভারত তার অধিকার প্রয়োগ করে জবাব দেয়। ক্ষিতিজ ত্যাগি বলেন, “যেহেতু পাকিস্তানকে প্রতিটি এজেন্ডা আইটেমে মনে করিয়ে দিতে হয় জম্মু ও কাশ্মীর ছিল, আছে এবং চিরকাল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ থাকবে। জম্মু ও কাশ্মীরের যে অংশ বিদেশি দখলে আছে, সেটা পাকিস্তানের দখলে থাকা অংশ।

   

আরও দেখুনঃ মুখ্যমন্ত্রী ব্রেকফাস্ট স্কীমের খাবারে টিকটিকি! হাসপাতালে ৩৮ ছাত্র-ছাত্রী

আমরা আবারও তাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাই।”তিনি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, পাকিস্তানের উচিত উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া। অন্যের ভূখণ্ড লোভ করা বা সন্ত্রাস রফতানি করা কোনো কাজে আসবে না। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাটকীয়তা দেখিয়েও তারা ঋণ শোধ করতে পারবে না, যার উপর তাদের অর্থনীতি টিকে আছে। এই মন্তব্যে পাকিস্তানের ঋণনির্ভর অর্থনীতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

Advertisements

ভারত পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের অবস্থার কথাও তুলে ধরেছে। ক্ষিতিজ ত্যাগি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানে হিন্দু, শিখ ও খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। তাদের মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ে দেওয়া হয়। ধর্মনিন্দা আইন প্রতিটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর ঝুলে থাকে। শিয়া, আহমদিয়া, ইসমাইলি ও হাজারাদের মতো মুসলিম সংখ্যালঘুরাও নিপীড়নের শিকার।

তাদের উপাসনালয় আক্রমণ ও অপবিত্র করা হয়।কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ১৯৯০ সালের দেশত্যাগের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গিরাই তাদের ঘরবাড়ি থেকে তাড়িয়েছিল। সেই একই জঙ্গিরা পরে সব ধর্মের কাশ্মীরিদের হত্যা করেছে, যাদের অনেকেই মুসলমান। যে রাষ্ট্র তাদের মদত দিয়েছে, সেই রাষ্ট্রই এখন কাউন্সিলের কাছে তদন্ত চাইছে। এই বিদ্রূপ কাউন্সিলের চোখ এড়াবে না।

ভারত আরও বলেছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বেসামরিক মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। জুন থেকে অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধ আটকে রাখা হয়েছে। এসব অভিযোগের জবাবে পাকিস্তান শুধু পদ্ধতিগত আপত্তি জানিয়েছে।

Advertisements