হিমালয়ের দ্রুত বদলে যাওয়া পরিবেশ এবং একের পর এক প্রাকৃতিক (Himalayan Climate)বিপর্যয় এবার আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়েছে নেপাল, ভারত ও চিনকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ প্রস্তাব দিয়েছেন, তিন দেশকে নিয়ে একটি ‘Himalayan Climate Resilience Mechanism’ গড়ে তোলা হোক। সাম্প্রতিক ভয়াবহ হড়পা বান এবং পাহাড়ি বিপর্যয়ের পর হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ সভায় প্রথমবারের মত বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। (Himalayan Climate)তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জল, কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ফলে হিমালয়কে শুধু কোনও একটি দেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে থাকা পর্বতমালা হিসেবে দেখলে চলবে না। এই অঞ্চলের পরিবর্তনের প্রভাব বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
আরও দেখুনঃ জামিনেই শেষ নয় ভ্যানডাইক সহ ৬ ইউক্রেনিওকে দেশে যাওয়ার অনুমতি কেন? ছড়াচ্ছে ক্ষোভ
এই পরিস্থিতিতে নেপাল, ভারত এবং চিনকে নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হবে তথ্য ও প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া। বিশেষ করে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য, আবহাওয়া ও পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তিন দেশের মধ্যে দ্রুত বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সীমান্তের কারণে বিপর্যয়কে আলাদা করে দেখা যায় না। পাহাড়ে যে ঘটনা শুরু হয়, তার প্রভাব নদীপথ ধরে অন্য দেশেও পৌঁছে যেতে পারে।
শাহের বক্তব্যে হিমবাহ এবং হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদগুলির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ গলে নতুন বা বড় হিমবাহ হ্রদ তৈরি হলে সেগুলি হঠাৎ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা তৈরি করতে পারে। তাই এই ধরনের বিপজ্জনক হ্রদগুলির নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য তিন দেশের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরির কথা বলেছেন তিনি। একইসঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিপর্যয় ঘটার পরে সাহায্য পাঠানোর বদলে বিপর্যয়ের আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। (Himalayan Climate)তাই প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মাধ্যমে যৌথ early-warning system গড়ে তোলার পাশাপাশি বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত পেরিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তার সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদান আরও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হিমালয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ বলেন, গলতে থাকা পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটির বরফ পাহাড়ের ঢালকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এর ফলে হিমবাহের কাছাকাছি এলাকায় বরফ ও পাথরের ধস, হড়পা বান এবং ভূমিধসের মতো একাধিক বিপদ পরপর ঘটতে পারে। (Himalayan Climate)সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এই ধরনের বিপর্যয়ের প্রভাব নেপাল-চিন সীমান্তে দেখা যাওয়ার পর তার জলপ্রবাহ ভারতের দিকেও নেমে এসেছে। ফলে বিপর্যয় মোকাবিলায় সীমান্তের দুই বা তিন প্রান্তে আলাদা ব্যবস্থা না নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
