‘যুবসমাজকে ভয় পাচ্ছেন মোদী’! জেন জির ভোটার তালিকাভুক্তি বন্ধ নিয়ে সরব কংগ্রেস

নয়াদিল্লি: দেশের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) অন্দরমহলে চলা টানাপোড়েনের মাঝেই এবার নতুন করে দানা বাঁধল বড়সড় বিতর্ক। ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী,…

নয়াদিল্লি: দেশের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) অন্দরমহলে চলা টানাপোড়েনের মাঝেই এবার নতুন করে দানা বাঁধল বড়সড় বিতর্ক। ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের অতি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক প্রক্রিয়া তথা স্পেশাল সামারি রিভিশন (SSR) পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সীদের (Gen Z) নাম ভোটার তালিকায় তোলার এই প্রক্রিয়া স্তব্ধ থাকায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছে বিরোধীরা। শাসক দলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্মকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস।

Advertisements

কী এই স্পেশাল সামারি রিভিশন বা SSR?

‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর মতো দীর্ঘ ও ব্যাপক প্রক্রিয়া থেকে এসএসআর (SSR) সম্পূর্ণ আলাদা। এটি প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার একটি রুটিন প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট বছরে যাঁরা ১৮ বছর পূর্ণ করছেন, তাঁরা ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই এবং ১ অক্টোবর, এই চারটি নির্দিষ্ট দিনে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পান। এর ফলে নতুন ভোটারদের নাম তোলার জন্য পরের বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। কিন্তু ২০২৪ সালের পর থেকে এই বার্ষিক পরম্পরায় ছেদ পড়েছে, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ (Representation of the People Act)-এর ধারা ২১-এর পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

   

কমিশনের অন্দরমহলে মতবিরোধ ও আইনি পরামর্শ

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার, সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর মধ্যে মতপার্থক্যের জেরেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দুই কমিশনার প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এসএসআর প্রক্রিয়া চালুর পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেও সিইসি জ্ঞানেশ কুমার চলমান এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাঝে আলাদা করে এসএসআর প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যদিও জানানো হয়েছে যে অভ্যন্তরীণ ‘মতামত পার্থক্য’ আলোচনার একটি স্বাভাবিক অংশ এবং বিগত ১০ মাসের সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।

‘মোদী সরকার জেন জি-কে ভয় পায়’: কংগ্রেসের আক্রমণ

ভোটার তালিকা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখার এই খবরে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি দিল্লি ও দেশজুড়ে পেপার লিক সহ নানা ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে ভয়ে এই চক্রান্ত করেছে কেন্দ্র।

Advertisements

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ এবং গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। অথচ সেখানে এখনও এসএসআর-এর কোনো ঘোষণা না হওয়ায় নতুন ভোটাররা তালিকাভুক্ত হতে পারছেন না বলে অভিযোগ।

রাজ্যসভা সাংসদ জয়রাম রমেশ তুলনামূলক আক্রমণ শানিয়ে বলেন, রাজীব গান্ধী ভারতের তরুণদের ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর বয়সে ভোটাধিকার দিয়েছিলেন, আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই তরুণদেরই নানা কায়দায় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছেন।

আগামী ২০29 সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশের অন্যতম বড় ভোটার শক্তি হতে চলেছে এই ‘জেন জি’ প্রজন্ম। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের এই দ্বন্দ্ব এবং বার্ষিক ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ আটকে থাকা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে।

নির্বাচন কমিশনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তুঙ্গে, ক্যাবিনেট সচিবের কাছে চিঠি নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচন কমিশনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তুঙ্গে, ক্যাবিনেট সচিবের কাছে চিঠি নিয়ে বিতর্ক

Advertisements