বৃহস্পতিবার সাতসকালে বিরাট দুর্ঘটনা । যাত্রীভর্তি স্লিপার বাসে আগুন লেগে মৃত্যু হল ৯জন যাত্রীর। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যমুনা এক্সপ্রসওয়ের ওপরে। মৃতদের মধ্যে ৮জন পুরুষ ও একজন মহিলা বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কীভাবে লাগল আগুন
যাত্রী বোঝাই স্লিপার বাসটিতে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। সেই অবস্থাতেই বাসটিতে আচমকা আগুন ধরে যায়। তখন সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন। ফলে প্রাণ বাঁচানোর সুযোগও অনেকে পাননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন যাত্রীরা যখন সবাই ঘুমোচ্ছিলেন, তখনই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাসের দরজা বন্ধ ছিল। এক যাত্রী জানান দরজা ধাক্কানোর শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে য়ায়। তখনই গোটা পরিস্থিতি নজরে আসে তাঁর।
দরজা খুলে বেশ কয়েকজন যাত্রী বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও, অনেকে তা পারেননি। তাড়াহুড়োতে আতঙ্ক ছড়ায়। কোনও রকমে প্রাণে বাঁচা যাত্রীরা নিজেদের জিনিসপত্রও নিয়ে বেরোতে পারেন নি। শুধু মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাস থেকে নেমে পড়েন তাঁরা।
কয়েকজন যাত্রী জানাচ্ছেন ঘন কালো ধোঁওয়ায় শ্বাস নেওয়া যাচ্ছিল না। সামনে কিছু দেখাও যাচ্ছিল না। ঘন অন্ধকারে হাতড়ে দরজা খুঁজে পাওয়ায় প্রাণ বেঁচেছে তাঁদের। বেরোনোর জন্য অনেকে মিলে একসঙ্গে ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছিলেন, ফলে রীতিমত ধাক্কাধাক্কি করতে হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে কিছুক্ষণ পরেই পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। দমকলও গিয়ে পৌঁছয় সেখানে। আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পাশাপাশিআহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। কীভাবে আগুন লাগল, তার তদন্ত চলছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ প্রকাশ্যে আসছে, তবে কীভাবে এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কীনা, তাও দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি সমস্ত যাত্রীদের চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন গোটা বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
