ডুয়ার্সের যোগাযোগ ব্যবস্থায় শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। (Dooars)চার বছরের অপেক্ষার পর মূর্তি নদীর উপর নতুন সেতু এখন চালু হয়েছে। ধনুকের মতো আর্চ আকৃতির এই সেতুটি ১২৬ মিটার লম্বা এবং প্রায় ১৩ মিটার চওড়া। পুরোনো কাঠের সেতুর স্থানে নির্মিত এই আধুনিক সেতু স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।প্রায় ১৭ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু নাগরাকাটা, চালসা, লাটাগুড়ি এবং আশপাশের এলাকার মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর ফলে নাগরাকাটা থেকে জলপাইগুড়ির দিকে যাতায়াত অনেক সহজ ও দ্রুত হবে। (Dooars)উত্তর তেন্দু বন, মঙ্গলবাড়ি, আইভি টি গার্ডেন, খায়েরবাড়িসহ ডুয়ার্সের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পৌঁছানোও এখন আরও সুবিধাজনক হয়ে উঠবে।স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর অপেক্ষায় ছিলেন। পুরোনো কাঠের সেতুটি বহুদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। বর্ষাকালে নদীর জল বাড়লে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটত।
আরও দেখুনঃ পরকীয়ার জের! হিন্দু প্রেমিকার গায়ে আগুন জ্বালিয়ে নিজেও পুড়ে মরল হামিদুল
নতুন সেতু চালু হওয়ায় এখন সব ধরনের যানবাহন নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। মালবাহী গাড়ি, বাণিজ্যিক যান এবং সাধারণ যাত্রীরা সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারবেন।পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ডুয়ার্স পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। হোটেল, হোমস্টে, গাড়ি ভাড়া, স্থানীয় দোকান এবং অন্যান্য পর্যটন-সংক্রান্ত ব্যবসায় নতুন গতি আসবে।
পর্যটকরা এখন আরও সহজে বিভিন্ন স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। (Dooars)সময় কম লাগায় একদিনেই বেশি জায়গা দেখার সুযোগ পাবেন তাঁরা।সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল কয়েক বছর আগে। নদীর উপর পিলার নির্মাণ এবং অন্যান্য কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে। শেষ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়ে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পূর্ত দফতরের সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
নাগরাকাটা ও আশপাশের এলাকার মানুষ এখন আনন্দিত। তাঁরা বলছেন, এই সেতু শুধু যোগাযোগই সহজ করবে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়াবে। কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন। ব্যবসায়ীরা মালপত্র পরিবহনে সুবিধা পাবেন। ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মজীবীদেরও দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে।ডুয়ার্সের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসেন।
নতুন সেতুর ফলে এই অঞ্চলের আকর্ষণ আরও বাড়বে। বন, চা বাগান, নদী ও পাহাড়ের মিশ্রণে গড়া এই এলাকা এখন আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে। স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই যানবাহনের চলাচল শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। রাতের বেলায় আলোর ব্যবস্থা থাকবে যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করা যায়। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই সেতু দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখবে।
