কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। (fish exports)রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে মাছ রফতানির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্য থেকে মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার। একে তিন থেকে চার গুণ বাড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কেন্দ্রীয় মৎস্য মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং।
সম্প্রতি কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।(fish exports)পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী রাজ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজ্যে ২৫.৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের পরেই এই অবস্থান। একই সঙ্গে মাছের পোনা উৎপাদনেও রাজ্য প্রথম স্থানে রয়েছে।
আরও দেখুনঃ এশিয়ান গেমসে রূপো জয় মীরাবাই চানুর, ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে ভারোত্তোলনে পদক ভারতে
এই শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এখন অ্যাকোয়াকালচার বা মাছ চাষের পরিসর বাড়ানো, মূল্য সংযোজন শৃঙ্খল মজবুত করা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলকে কালো বাঘ চিংড়ি, কাঁকড়া ও ইলিশের হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং সুন্দরবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে। (fish exports)বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় ছয়টি অমৃত সরোবর প্রকল্পের জন্য ৮৩২.৫ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অংশ ৪৯৯.৫ লক্ষ টাকা। এই সরোবরগুলো শুধু জল সংরক্ষণই নয়, অভ্যন্তরীণ মৎস্য চাষেও বড় ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা বা পিএমএমএসওয়াই-এর আওতায় রাজ্যে কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে ১০২.২৩ কোটি টাকা এবং রাজ্যের অংশ হিসেবে ৬৬.৪৮ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই মোবিলাইজ করা হয়েছে।
এই অর্থ দিয়ে মাছ চাষিদের প্রশিক্ষণ, কোল্ড স্টোরেজ, প্রসেসিং ইউনিট এবং বাজার সংযোগ বাড়ানো হবে।মৎস্যজীবীদের জন্য ডিজিটাল পোর্টালে ইতিমধ্যে ২.৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১.২ লক্ষ নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সব মৎস্যজীবীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। কৃষক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কল্যাণমূলক সুবিধা বাড়ানো হবে।
রাজ্যের প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ সরাসরি এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। (fish exports)আরও অনেকে পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই এই খাতের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক নিরাপত্তারও বিষয়।বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যে সুন্দরবনের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ব্ল্যাক টাইগার শ্রিম্প ও মাড ক্র্যাব রফতানি বাড়ানো যায়। ইলিশ রফতানিতেও ইতিমধ্যে সাফল্য এসেছে।
আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি হত, এখন ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানি শুরু হয়েছে। এই ধরনের সাফল্য আরও বাড়াতে হবে। মাছের মান উন্নয়ন, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থা মজবুত না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন। তাই পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
