সন্তানদের বন্দি করে গুলির লড়াই! আজমগড়ে পুলিশের হাতে নিহত অরবিন্দ

উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার (Azamgarh)শম্ভুপুর গ্রামে ঘটে গিয়েছিল এক ভয়াবহ ঘটনা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন অরবিন্দ সিং। কয়েক ঘণ্টার টানা অবরোধের পর বুধবার…

azamgarh-hostage-standoff

উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার (Azamgarh)শম্ভুপুর গ্রামে ঘটে গিয়েছিল এক ভয়াবহ ঘটনা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন অরবিন্দ সিং। কয়েক ঘণ্টার টানা অবরোধের পর বুধবার ভোরে এই ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটে। অরবিন্দ তার স্ত্রী ও দুই পূজারিকে গুলি করে হত্যা করার পর তিন সন্তানকে বন্দি করে বাড়ির ভেতরে আত্মগোপন করেছিলেন। সেই সময় তিনি নিজের ছেলেকেও গুলি করেন। বাকি দুই সন্তানকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Advertisements

ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে শুরু হয়। অরবিন্দের পরিবার তার প্রয়াত ভাইয়ের আত্মার শান্তির জন্য বাড়িতে পূজা-অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, (Azamgarh)অরবিন্দের আচরণ কিছুদিন ধরেই উগ্র ও অস্থির হয়ে উঠেছিল। পরিবার তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বাড়ির পরিবেশ শান্ত করতে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে। কিন্তু অরবিন্দ বাজার থেকে বাড়ি ফিরে পূজা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

   

আরও দেখুনঃ শারজায় কর্নাটকের যুবককে খুন করে ৯ টুকরো! গাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার, নিখোঁজ স্ত্রী-পুত্র

তিনি পূজার বিরোধিতা করেন এবং উপস্থিত পূজারীদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। (Azamgarh)তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তিনি লাইসেন্সধারী রিভলভার বের করে প্রথমে স্ত্রী ববিতাকে এবং তারপর দুই পূজারী মহেন্দ্র পাঠক ও অখিলেশ মিশ্রকে গুলি করেন। তিনজনই ঘটনাস্থলেই মারা যান।এরপর অরবিন্দ তার তিন সন্তান দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বাড়ির একটি ঘরে আটকে পড়েন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি বাইরে আসতে বা সন্তানদের ছেড়ে দিতে অস্বীকার করেন।

Advertisements

আজমগড়ের (Azamgarh)সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ অনিল কুমার জানিয়েছেন, পুলিশ বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় এবং পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অরবিন্দ হুমকি দিতে থাকেন যে তিনি সন্তানদের ও পুলিশকে গুলি করবেন। সাত থেকে আট ঘণ্টা ধরে এই অবরোধ চলে। রাতের অন্ধকারে গ্রামের সেই বাড়ি ঘিরে থাকে নিরাপত্তা বাহিনী। আলো-আঁধারির মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

অবরোধ চলাকালীন ঘরের ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে জানা যায়, অরবিন্দ নিজের ছোট ছেলেকে গুলি করেছেন। ছেলেটি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে মারা যান। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশ স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে। যখন পুলিশ দল এগোতে থাকে, তখন অরবিন্দ তাদের দিকে গুলি ছুড়তে থাকেন।

আত্মরক্ষা ও শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এই সংঘর্ষে অরবিন্দ আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। তার দুই মেয়ে নিরাপদে উদ্ধার হয়। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামবাসীরা বলছেন, অরবিন্দের আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল।

পরিবার সদস্যরা তার আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন বলেই পূজার আয়োজন করেছিলেন। পুলিশের মতে, অরবিন্দ পূজাকে ভাল চোখে দেখতেন না এবং পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নৃশংস কাজ করেছেন। স্থানীয়রা এখনও ঘটনার কথা স্মরণ করে শিউরে উঠছেন। একটি সাধারণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান কীভাবে এত বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো, তা নিয়ে মানুষ আলোচনা করছে।

Advertisements