সাংসদ চন্দ্রশেখর রাবণ সম্প্রতি তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (Chandrashekhar)অত্যাচার নিবারণ আইনের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে ন্যূনতম ক্ষতিপূরণ আট লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৩০ লাখ টাকা করা উচিত। এই দাবির মাধ্যমে তিনি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করেছেন।
চন্দ্রশেখর রাবণের মতে, কোনো মানুষের জীবনের মূল্য মাত্র সাড়ে আট লাখ টাকা হতে পারে না। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ অন্তত ৩০ লাখ টাকা হওয়া উচিত। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পরে যদি আদালতে অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে সেই অর্থ অভিযুক্তের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া যেতে পারে।
আরও দেখুনঃ বিশ্বের প্রথম ৫জি স্ট্যান্ডঅ্যালোন আর্কিটেকচার! বিশ্বমঞ্চে নয়া পুরস্কার পেল JIO
সাংসদ আরও বলেছেন, যারা এসসি/এসটি অত্যাচার নিবারণ (Chandrashekhar)আইনের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা মূলত ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই ভাই’ স্লোগানের আড়ালে থাকা দ্বৈত নীতি উন্মোচন করছেন। তাঁর মতে, এই আইনটি দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের সুরক্ষার জন্য তৈরি হয়েছিল। এটিকে দুর্বল করার কোনো চেষ্টা সামাজিক ন্যায়বিচারের বিরোধী।এসসি/এসটি অত্যাচার নিবারণ আইন দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত বিষয়।
একদিকে এটি তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে এর অপব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। চন্দ্রশেখর রাবণের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। তিনি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি আইনের কার্যকারিতা আরও মজবুত করার পক্ষে মত দিয়েছেন।বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এসসি/এসটি অত্যাচার নিবারণ আইনের আওতায় নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে অনেকের মতে, সেই পরিমাণ যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে যখন কোনো পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য প্রাণ হারান বা গুরুতরভাবে আহত হন, তখন আট লাখ টাকায় পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয় না। চন্দ্রশেখর রাবণ সেই বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছেন।তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন যে সরকার প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিক। পরে বিচার প্রক্রিয়া শেষে যদি দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে অভিযুক্তকে সেই অর্থ সরকারকে ফেরত দিতে হবে।
এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দ্রুত অর্থিক সহায়তা পাবে, (Chandrashekhar)অন্যদিকে অপরাধীরাও আর্থিকভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য হবেন। এই প্রস্তাবকে অনেকেই বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন।সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে চন্দ্রশেখর রাবণের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, আইনের বিরোধিতা করে যারা কথা বলছেন, তাঁরা মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেই প্রকাশ করছেন।
‘হিন্দু-হিন্দু ভাই ভাই’ স্লোগান দিয়ে যদি কোনো সম্প্রদায়ের ন্যায্য (Chandrashekhar)অধিকার অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেই স্লোগানের অর্থই থাকে না। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হয়ে আসছেন। এসসি/এসটি আইন তাঁদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো হলে তা শুধু অর্থিক সহায়তাই দেবে না, বরং অপরাধীদের জন্যও এক ধরনের নিরুৎসাহের কাজ করবে।
চন্দ্রশেখর রাবণ সেই লক্ষ্যেই তাঁর দাবি তুলে ধরেছেন।সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই দাবির কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি সংসদ ও সামাজিক আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের সময় জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
