৩১ বছর আগে নিয়েছিলেন ঘুষ! ২০২৬ এ সাজা পেলেন ৭৫ বছরের রেল কর্মী

ঝাড়খন্ড: ঝাড়খণ্ডে এক অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে বুকিং ক্লার্কের (railway clerk)বিরুদ্ধে ৩১ বছর পর সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১০০ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগে…

jharkhand-railway-clerk-bribery-case

ঝাড়খন্ড: ঝাড়খণ্ডে এক অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে বুকিং ক্লার্কের (railway clerk)বিরুদ্ধে ৩১ বছর পর সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১০০ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ৭৫ বছর বয়সে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার উদাহরণ, অন্যদিকে তেমনই দেখায় যে অপরাধের সাজা থেকে কেউই সম্পূর্ণ রেহাই পায় না।

Advertisements

ঘটনাটি তিন দশকেরও বেশি পুরনো। (railway clerk)তখন তিনি রেলওয়েতে বুকিং ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, এক যাত্রীর কাছ থেকে টিকিট কাটার সময় তিনি ১০০ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। সেই সময়ের হিসাবেও এই অর্থের পরিমাণ খুব বেশি ছিল না, কিন্তু আইন অনুযায়ী ঘুষ গ্রহণ বা দাবি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ উঠলে মামলা রুজু হয় এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকে।

   

আরও দেখুনঃ আসাদ আলম সিয়ামকে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নিয়োগে অনুমোদন নয়াদিল্লির

সাক্ষী হাজির করানো, নথিপত্র যাচাই এবং আদালতের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সাজা ঘোষিত হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন এবং বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। ৭৫ বছর বয়সে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ও করুণ বলে মনে হচ্ছে। তবু আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁকে সাজা ভোগ করতে হচ্ছে।

Advertisements

এই মামলাটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের প্রতিফলন। (railway clerk)রেলওয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে ছোটখাটো ঘুষের অভিযোগ অনেক সময় চাপা পড়ে যায় বা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত এগিয়েছে। ৩১ বছর পর সাজা হওয়াটা দেখায় যে বিচার ব্যবস্থা ধীরগতির হলেও সম্পূর্ণ থেমে যায় না। অনেক মামলায় সাক্ষীদের স্মৃতি ম্লান হয়ে যায়, নথি হারিয়ে যায় বা অভিযুক্তের মৃত্যু হয়ে যায়।

এখানে সেই পরিণতি হয়নি।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এত ছোট অঙ্কের ঘুষের জন্য এত বছর পর বৃদ্ধ বয়সে জেল হওয়াটা অমানবিক। আবার অনেকে মনে করছেন, আইনের শাসন বজায় রাখতে হলে অপরাধের পরিমাণ ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, সাজা হওয়া উচিত। ঘুষের সংস্কৃতি যদি ছোট পর্যায়েও সহ্য করা হয়, তাহলে বড় দুর্নীতির পথ আরও প্রশস্ত হয়।

ঝাড়খণ্ডের (railway clerk)আদালতের এই রায় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ও সচেতন নাগরিকদের কাছে এক ধরনের বার্তা বহন করে। চাকরিরত অবস্থায় কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে অবসরের পরও তার দায় এড়াতে পারেন না। বয়স বা অবসর কোনো অজুহাত হয়ে দাঁড়ায় না। একইসঙ্গে এই ঘটনা বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও মনে করিয়ে দেয়। মামলা নিষ্পত্তিতে এত সময় লাগাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পারলে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী উভয়েই উপকৃত হতেন।

রেলওয়েতে ঘুষের অভিযোগ নতুন নয়। টিকিট কাউন্টার, পার্সেল বুকিং বা অন্যান্য পরিষেবায় এ ধরনের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই ওঠে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এসেছে, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সরাসরি যোগাযোগ কমেছে। তবু সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। এই পুরনো মামলার সাজা সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

Advertisements