দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম পৌঁছাতে পারে ৩ লক্ষের ঘরে! কিন্তু কেন?

কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের রেকর্ড ভাঙা অস্থিরতার মুখোমুখি হতে পারে সোনা! জেফারিজের (Jefferies) ইকুইটি স্ট্র্যাটেজির গ্লোবাল হেড ক্রিস্টোফার উড (Christopher Wood)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস ঘিরে ইতিমধ্যেই…

কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের রেকর্ড ভাঙা অস্থিরতার মুখোমুখি হতে পারে সোনা! জেফারিজের (Jefferies) ইকুইটি স্ট্র্যাটেজির গ্লোবাল হেড ক্রিস্টোফার উড (Christopher Wood)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস ঘিরে ইতিমধ্যেই আর্থিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তাঁর অনুমান অনুযায়ী, সুদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ১০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমান ডলার এবং ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী হিসাব করলে, এই দর পৌঁছতে পারে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ঘরে। তবে এই বিশাল উল্লম্ফন স্বল্প মেয়াদে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাপটেই সম্ভব বলে মনে করছেন ওই বিশেষজ্ঞ।

Advertisements

বর্তমানে সোনার বাজারদর কেমন?

এই মুহূর্তে ২৪ ক্যারাটের পাকা সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার সামান্য বেশি। অর্থাৎ, দাম যদি ৩ লক্ষ টাকার স্তরে পৌঁছায়, তবে তা বর্তমান বাজারদরের প্রায় দ্বিগুণ হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ভারতের খুচরো বাজারে সোনার দাম শুধু আন্তর্জাতিক স্পট প্রাইস বা এক্সচেঞ্জ রেটের ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় আমদানির শুল্ক এবং স্থানীয় করের মতো নানা বিষয়ও।

   

কেন হতে পারে এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি?

ক্রিস্টোফার উডের যুক্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আর্থিক অনিশ্চয়তা, সুদের হারের ওঠানামা, মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং লাগাতার ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাই সোনার দাম আকাশছোঁয়া করার মূল চাবিকাঠি। তাঁর মতে, আগামী দিনে যদি বিশ্বজুড়ে ঋণের পরিস্থিতি খারাপ হয় কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর পরিকাঠামো খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের ধাক্কা সামলাতে হয়, তবে বাজারে ‘মনটারি ইজিং’ বা মুদ্রা সহজীকরণের প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। এছাড়া, সুদের হার কমলে বা শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নামলে বিনিয়োগকারীরা সবসময়ই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলেও সোনার চাহিদা ও দাম একযোগে বাড়তে থাকে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালীর টানাপড়েন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাঘাতের জেরে তেলের দাম লাগাতার বাড়ছে। এই ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ডামাডোলে সোনা বরাবরই ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হয়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (World Gold Council)-এর রিপোর্টও বলছে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির জেরে আগামী দিনে সোনার চাহিদা আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। যদিও বাজারে সুদের হার চড়া থাকলে সোনায় বিনিয়োগের ঝোঁক কিছুটা মন্থর হয়, তবুও দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতা এবং সার্বিক বিশ্ব পরিস্থিতির জেরে দাম বাড়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

Advertisements

২০৫৬ পর্যন্ত বাংলায় ৩ স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে তোলার লক্ষ্য শুভেন্দু সরকারের

২৫ সেপ্টেম্বর আসছে Tata Aeris, টিগর ফেসলিফটে নতুন ডিজাইন ও ফিচার

Advertisements