পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ! হরিণঘাটায় ACB-র জালে দুই সিভিক ভলান্টিয়ার

কলকাতা: পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের কাজ এগিয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে (Civic Volunteers)নদিয়া জেলার হরিণঘাটায় দুই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা বা ACB।…

haringhata-civic-volunteers-bribery

কলকাতা: পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের কাজ এগিয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে (Civic Volunteers)নদিয়া জেলার হরিণঘাটায় দুই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা বা ACB। সোমবার হরিণঘাটা ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ বা DIB অফিসে অভিযান চালিয়ে তাঁদের হাতেনাতে ধরেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, এক স্থানীয় বাসিন্দার কাছ থেকে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত কাজে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন ওই দুই সিভিক ভলান্টিয়ার। অভিযোগ পাওয়ার পরই ফাঁদ পেতে তাঁদের ধরার পরিকল্পনা করে ACB।

Advertisements

ঘটনার সূত্রপাত নদিয়ার নিমতলা বাজার এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই ব্যক্তি ACB-র কাছে অভিযোগ করেন, হরিণঘাটা DIB অফিসে কর্মরত দুই সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁর পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সঙ্গে যুক্ত কাজের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। (Civic Volunteers)অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির প্রাথমিক যাচাই শুরু করেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে ফাঁদ পাতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো সোমবার হরিণঘাটা DIB অফিসে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয় ACB।

   

আরও দেখুনঃ ৪,১৩৩টি স্কুলে নেই একজন ছাত্র-ছাত্রী! পরিস্থিতি সামাল দিতে পিপিপি মডেলে ঝুঁকছে শুভেন্দু সরকার

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযোগকারী নির্দিষ্ট সময়ে ওই টাকা নিয়ে DIB অফিসে পৌঁছন। আগে থেকেই সেখানে নজর রাখছিলেন ACB-র আধিকারিকরা। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা হস্তান্তরের সময় দুই সিভিক ভলান্টিয়ারকে হাতে-নাতে ধরে ফেলেন তদন্তকারীরা। এরপর তাঁদের দু’জনকেই হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়। যে টাকা ঘুষ হিসেবে দাবি করা হয়েছিল, সেই অর্থও ACB-র ফাঁদ অভিযানের অংশ হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisements

হরিণঘাটা DIB অফিসটি রানাঘাট পুলিশ জেলার অধীন। সেখানে ওই দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব এবং পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত কাজে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শুধুমাত্র ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগেই টাকা চেয়েছিলেন, (Civic Volunteers)নাকি এর পিছনে আরও কারও ভূমিকা রয়েছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য, নথি এবং ফাঁদ অভিযানের সময় সংগ্রহ করা প্রমাণও পরীক্ষা করে দেখছে ACB।

দুর্নীতি দমন শাখার এই ধরনের অভিযানে সাধারণত কোনও সরকারি বা সরকারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কাজে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর প্রথমে বিষয়টি যাচাই করা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় ফাঁদ পাতা হয়। (Civic Volunteers)এ ক্ষেত্রেও অভিযোগকারীকে নির্দিষ্ট টাকা নিয়ে অভিযুক্তদের কাছে যেতে বলা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে টাকা নেওয়ার সময় দুই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের মতো সাধারণ নাগরিক পরিষেবায় বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় পুলিশি ভেরিফিকেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ফলে এই পর্যায়ে কোনও ধরনের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে কি না, কিংবা টাকা না দিলে পরিষেবা আটকে দেওয়ার মতো কোনও চাপ তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হতে পারে।

Advertisements