নয়াদিল্লি: নতুন প্রজন্মের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের (Akashteer)প্রস্তুতি আরও একবার যাচাই করে নিল ভারতীয় সেনা। ‘বজ্র এয়ার ডিফেন্স ওয়ারিয়র্স’-এর নেতৃত্বে দিন ও রাত মিলিয়ে বিশেষ সামরিক মহড়া চালানো হয়েছে। এই মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল সেনার হাতে থাকা বিভিন্ন এয়ার ডিফেন্স অস্ত্রের সঙ্গে সদ্য অন্তর্ভুক্ত ‘আকাশতীর’ (Akashteer) ব্যবস্থার সমন্বয় কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করা।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশপথের লড়াই ২৪ ঘণ্টাই সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে শুধু দিনের আলোয় নয়, রাতের অন্ধকারেও দ্রুত শনাক্তকরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা কতটা রয়েছে, সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই মহড়ায়।
আরও দেখুনঃ হিন্দু ধর্মে জাতপাত কলঙ্কের মত! বিস্ফোরক RSS নেতা হোসাবালে
মহড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘সেন্সর-টু-শুটার’ লুপ। (Akashteer)সহজভাবে বললে, শত্রুর কোনও বিমান বা আকাশপথের অস্ত্র রাডারে ধরা পড়ার পর সেটিকে শনাক্ত করা, তার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফায়ারিং ইউনিটের কাছে দ্রুত এনগেজমেন্ট অর্ডার পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিই এই লুপের অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক যুদ্ধে এই পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মুহূর্তের বিলম্বও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই মহড়ায় সেনা সদস্যরা সিমুলেটেড শত্রু হামলার পরিস্থিতিতে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ট্র্যাক এবং এনগেজ করার অনুশীলন করেন।
এই মহড়ার কেন্দ্রে ছিল ‘প্রজেক্ট আকাশতীর’। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় এবং AI-নির্ভর Air Defence Control and Reporting System, যা ভারতের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাকে আরও বেশি নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক করে তুলতে তৈরি করা হয়েছে। দেশীয় সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড বা BEL এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে। প্রায় ১,৯৮২ কোটি টাকার একটি চুক্তির আওতায় তৈরি এই প্রযুক্তিকে ভারতীয় সেনার আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আকাশতীরের (Akashteer)মূল শক্তি হল, এটি বিভিন্ন ধরনের গ্রাউন্ড-বেসড এয়ার ডিফেন্স সম্পদকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে 3D Tactical Control Radar, Low-Level Lightweight Radar এবং Surface-to-Air Missile-এর মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা। আগে যেখানে বিভিন্ন সেন্সর এবং অস্ত্র ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে আলাদা ভাবে কাজ করত, সেখানে আকাশতীরের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য একটি অভিন্ন অপারেশনাল ছবির অংশ হয়ে উঠতে পারে। ফলে কোনও আকাশপথের হুমকি সম্পর্কে তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কমব্যাট ইউনিট এবং কমান্ড পোস্টে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এই ব্যবস্থার ফলে লক্ষ্য শনাক্ত হওয়ার পর অস্ত্র ব্যবহারের পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছতে যে সময় লাগে, তা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় যে সমস্ত ম্যানুয়াল ধাপের কারণে সিদ্ধান্ত নিতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই বিলম্ব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য এক জায়গায় একত্রিত হওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশপথের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার এবং নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঝুঁকি কমানো। যুদ্ধক্ষেত্রে একই সময়ে শত্রু, মিত্র এবং নিরপেক্ষ বিমান বা অন্যান্য আকাশযান সক্রিয় থাকতে পারে। আকাশতীরের সমন্বিত অপারেশনাল ছবি এই বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের ব্যবহারকারীকে আলাদা করে শনাক্ত করতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই তৈরি। এর ফলে ভুল করে নিজেদের বা মিত্র বাহিনীর কোনও প্ল্যাটফর্মকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
